যৌথভাবে লা লিগার সফলতম কোচ সিমিওনে

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৫৭ পিএম

যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে ইউরোপীয় ফুটবলের সবচেয়ে কঠোর ও আত্মনিবেদিত কোচদের একজন হয়ে উঠেছেন ডিয়েগো সিমিওনে। ২০১২ সালের শুরুতে যখন আতলেতিকো মাদ্রিদের দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তখন হয়তো অনেকেই ভাবেননি ক্লাবটির ইতিহাস নতুন করে লিখতে যাচ্ছেন এই আর্জেন্টাইন। লেভান্তের বিপক্ষে গতকাল তার দল ২-০ ব্যবধানের জয় পেতেই স্প্যানিশ লা লিগার ইতিহাসে যৌথভাবে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জেতার রেকর্ড গড়েছেন সিমিওনে। 

ক্লাবটির কিংবদন্তি প্রয়াত লুইস আরাগোনাসের ৩৪৪ জয়ের ঐতিহাসিক রেকর্ড স্পর্শ করলেন তিনি, তাও ১৯২টি ম্যাচ কম খেলে। তবে আরাগোনাসের মতো ৮টি ভিন্ন ক্লাবে ঘুরে নয়, এই অবিশ্বাস্য চূড়া সিমিওনে স্পর্শ করেছেন স্রেফ একটি ক্লাবের ডাগআউটে বসে।

লা লিগার ইতিহাসে ডিয়েগো সিমিওনের গড়া এই রেকর্ডটি মূলত স্প্যানিশ ফুটবলে কোনো একজন কোচের সর্বোচ্চ ম্যাচ জয়ের রেকর্ড। এর আগে এই রেকর্ডটির একক মালিক ছিলেন আতলেতিকোরই কিংবদন্তি কোচ আরাগোনাস, যিনি ৮টি ভিন্ন ক্লাবের (আতলেতিকো মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, সেভিয়া, ভ্যালেন্সিয়াসহ অন্যান্য) হয়ে ৭৫৭ ম্যাচ খেলে মোট ৩৪৪টি জয় পেয়েছিলেন।

কিন্তু সিমিওনে এক অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়েছেন, মাত্র একটি ক্লাবের (আতলেতিকো মাদ্রিদ) হয়ে দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে একটানা দায়িত্ব পালন করে এবং ১৯২ ম্যাচ কম খেলে সেই একই সংখ্যক (৩৪৪টি) জয়ের মাইলফলক ছুঁয়েছেন। 

মিগেল মুনিওস (৩২৩), এরনেস্তো ভালভেরদে (২৭৮) এবং ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনির (২৭১) মতো কিংবদন্তি কোচদের পেছনে ফেলে আসা সিমিওনে এখন স্প্যানিশ ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম সেরা মাস্টারমাইন্ড। দীর্ঘ এই কোচিং ক্যারিয়ারে আতলেতিকোকে দুটি লা লিগা, দুটি ইউরোপা লিগ, দুটি ইউয়েফা সুপার কাপ, একটি কোপা দেল রে এবং একটি স্প্যানিশ সুপার কাপসহ মোট আটটি বড় ট্রফি উপহার দিয়েছেন তিনি।

লেভান্তের বিপক্ষে এই ঐতিহাসিক জয়ের পর নিজের সাফল্যকে ব্যক্তিগত অহংকারে পরিণত না করে পুরো কৃতিত্ব দলের খেলোয়াড় ও ক্লাব কর্মকর্তাদের উৎসর্গ করেছেন ডিয়েগো সিমিওনে।

ম্যাচ শেষে মোভিস্টার-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আতলেতিকো মাদ্রিদ কোচ বলেন, “আসলে আমার মনে হয়, এটা সেই অসংখ্য খেলোয়াড়ের কাছ থেকে পাওয়া উপহার, যারা একটা নির্দিষ্ট পথ অনুসরণ করেছে এবং অবিশ্বাস্য সব কাজ করে দেখিয়েছে। আমাকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে আসতে যে খেলোয়াড়েরা সাহায্য করেছেন, তাদের সবার সঙ্গেই আমি খুব ঘনিষ্ঠ অনুভব করি।”

ইউরোপীয় ফুটবলে তার পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও তার ওপর আস্থা রাখার জন্য ক্লাবের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সিমিওনে আরও যোগ করেন, “আমাকে সেই সময়ে ফিরে যেতে হবে যখন ইউরোপে আমার খুব কম অভিজ্ঞতা থাকার পরও মিগেল অ্যাঞ্জেল গিল মারিন (আতলেতিকোর সাবেক সিইও) আমাকে কোচ করে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেই সিদ্ধান্ত না থাকলে আজ আমরা এতদূর আসতে পারতাম না। আমার পাশে সবসময় এমন অনেকেই ছিলেন যারা আমাকে সাহায্য ও সমর্থন করেছেন। আমরা যা গড়ে তুলেছি তা মোটেই সহজ ছিল না।”

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত