জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে জার্মানিতে সহিংস বিক্ষোভ

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৪৮ পিএম

জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, শিক্ষা খাতে বরাদ্দের ঘাটতি এবং সরকারি ব্যয় সংকোচনের প্রতিবাদে জার্মানির বিভিন্ন শহরে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচি সহিংস রূপ নিয়েছে। এ সময় দেশটির আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ফ্রাঙ্কফুর্টের কেন্দ্রীয় এলাকায় বেশ কয়েকটি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। খবর বিবিসির। 

শনিবার (৩১ অক্টোবর) ফ্রাঙ্কফুর্ট ছাড়াও বার্লিন, কোলন ও হামবুর্গে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে। বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশ ও জরুরি সেবাকর্মীদের লক্ষ্য করে আতশবাজি, পাথর ও বোতল নিক্ষেপ করে। 

এর আগে দিনের বেলায় হাজার হাজার মানুষ মূলত শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভে অংশ নেন। ‘জেন-জি রেগেল্ট’ নামের একটি আন্দোলনকারী গোষ্ঠী এ কর্মসূচির আয়োজন করে। জার্মান ভাষায় যার অর্থ ‘জেনারেশন জেড নিজেরাই দায়িত্ব নিচ্ছে’। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত অর্থায়ন, জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়, সরকারি ব্যয় সংকোচন এবং বাধ্যতামূলক সামরিক চাকরির বিরোধিতা ছিল বিক্ষোভের মূল দাবি।

জার্মানিতে এই বিক্ষোভের পাশাপাশি একই দিনে ফ্রান্সেও তরুণদের নেতৃত্বে বড় ধরনের আন্দোলন হয়। সেখানে তিন লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন।

রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জার্মানির বিভিন্ন শহরে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। ফ্রাঙ্কফুর্টের প্রধান বিপণিবিতান এলাকার বড় একটি অংশ বন্ধ করে দেয় পুলিশ। শহরটিতে বহু মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ফ্রাঙ্কফুর্ট, মিউনিখ ও বার্লিনের কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ১৮ হাজার পর্যন্ত হতে পারে। তবে আয়োজকদের ওয়েবসাইটে দেওয়া হিসাব ছিল এর প্রায় দ্বিগুণ। জার্মান সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভে অংশ নেন কয়েক হাজার থেকে কয়েক দশ হাজার মানুষ।

শনিবার রাতে ফ্রাঙ্কফুর্ট পুলিশ জানায়, শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় ‘সহিংস তাণ্ডব’ চলছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশেষ পুলিশ ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকটি দোকানের জানালার কাচ ভাঙচুর করা হয়েছে এবং জরুরি সেবাকর্মীদের লক্ষ্য করে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত