আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলায় দায়রা আদালতে জামিন পেলেন না এমপি নজরুল

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:০৩ পিএম

দ্বিতীয় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলায় দায়রা আদালতেও জামিন পেলেন না জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা ও সাতক্ষীরার-৪ আসনের জি এম নজরুল ইসলাম এমপি।

রবিবার (১ নভেম্বর) মহানগর দায়রা জজ শাজাহান কবীর উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিনের আবেদন নাকচ করে দেন। এর আগে কয়েক বার ঢাকার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তার জামিনের আবেদন নাকচ করে। সেই আদেশে বিপরীতে মহানগর দায়রা জজ আদালত জামিনের আবেদন করে ছিল তার নিয়োজিত আইনজীবী।

জামিনের আবেদন নাকচ করা কারণ ব্যাখ্যা করে আদালত বলেন, আসামি শুধু বয়স্ক, এ জন্য বা আপস অযোগ্য ধারার মামলায় আপসনামা দিয়েছে। কিন্তু ভিকটিম একজন অতি অল্পবয়স্ক, তিনি বিভিন্ন নোট লিখে গিয়েছেন। আসামির হেফাজতে থাকা অবস্থায় ভিকটিম আত্মহত্যা করেছেন। আসামি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসবাসরত অবস্থায় ভিকটিমের মৃত্যু হয়েছে। আসামি জামিনে গেলে সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে। সমাজে ন্যায়বিচার সম্পর্কে বিরূপ ধারণা হতে পারে এই পর্যায়ে তার জামিন নামঞ্জুর করা হলো ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসংলগ্ন সংসদ সদস্যদের আবাসিক এলাকায় নজরুলের ফ্ল্যাট থেকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের পরদিনই গ্রেপ্তার করা হয় নজরুলকে।

তারপর দুদফা রিমান্ড শেষে তিনি এখন রয়েছেন কারাগারে। একই মামলায় এমপি নজরুলের মামা শশুর  দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের চার দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে আছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে এক হাজার টাকা মুচলেকায় জামিন দেন। ২৮ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুই দফায় ৮ দিনের রিমান্ড শেষে গাজী নজরুলকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে। গত ২০ সেপ্টেম্বর রবিবার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের উল্টোদিকের ন্যাম ভবনের ২০৩ নং ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এরপর রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে এ মামলাটি করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ উক্ত মামলায় বাদী অভিযোগ করেন যে নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী শারীরিক ও মানষিক নিযাতন করার কারনেই তার মেয়ে মরিয়ম আত্মহত্যা করেছে। গত ২০ জুলাই রাতে ঢাকার মগবাজারের একটি হোটেলে মরিয়মের সঙ্গে এমপি নজরুলের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। পরে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম ফেইসবুকে পোস্টে ওই তরুণীকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত