৬ মাস ধরে বেতন নেই, ক্ষোভে মাদ্রাসা সুপারকে অবরুদ্ধ করলেন শিক্ষকরা

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৫২ পিএম

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ছয় মাস ধরে বেতন-ভাতা না পাওয়ার অভিযোগে মাদ্রাসার সুপার ও অফিস সহকারীকে অফিসকক্ষে তালাবদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে কামাত আঙ্গারীয়া দাখিল মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় মাদ্রাসার সুপার সাইদুর রহমান ও অফিস সহকারী শফিয়ার রহমানকে একটি কক্ষে আটকে রেখে বাইরে বারান্দায় বসে বিক্ষোভ করেন অন্য শিক্ষক ও কর্মচারীরা।

বিক্ষোভকারী শিক্ষকদের অভিযোগ, নিয়োগসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসার সুপার ও অফিস সহকারীর মধ্যে বিরোধ চলছে। এর জেরে এমপিওভুক্ত মাদ্রাসাটির সব শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতা গত ছয় মাস ধরে বন্ধ রয়েছে।

সহকারী শিক্ষক ইমরুল কায়েস বলেন, সুপার ও অফিস সহকারীর মধ্যকার নিয়োগসংক্রান্ত বিরোধের কারণে শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন পাচ্ছেন না। ছয় মাস ধরে বেতন-ভাতা বন্ধ থাকায় তাঁরা আর্থিক সংকটে পড়েছেন। বেতন আটকে রেখে সুপার অমানবিক আচরণ করেছেন। এ সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত দুজনকে অবরুদ্ধ রাখা হবে।

সহকারী শিক্ষক রত্না পারভিন বলেন, বেতন-ভাতা না পাওয়ায় পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এমনকি ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচও জোগানো সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়েই তাঁরা সুপার ও অফিস সহকারীকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করছেন।

সহকারী মৌলভী শিক্ষক আমিনুল ইসলাম জানান, বেতন-ভাতা পরিশোধ না করা পর্যন্ত তাঁদের অবরুদ্ধ রাখা হবে। বেতন পেলেই তারা আবার পাঠদানে ফিরবেন।

তবে বেতন আটকে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অবরুদ্ধ মাদ্রাসার সুপার সাইদুর রহমান। তিনি দাবি করেন, বেতনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করেছিলেন। কিন্তু অফিস সহকারী শফিয়ার রহমান সেগুলো ছিনিয়ে নিয়েছেন।

অন্যদিকে, সুপারের এ অভিযোগ অস্বীকার করে অফিস সহকারী শফিয়ার রহমান বলেন, শিক্ষকদের সঙ্গে সমন্বয় করে বেতন দিতে সুপারের কোনো আপত্তি থাকার কথা নয়। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা।

এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেব নাথ বলেন, মাদ্রাসার সুপার ও অফিস সহকারীকে অবরুদ্ধ করে রাখার খবর পেয়ে বিষয়টি সমাধানের জন্য মাদ্রাসার সভাপতিকে জানানো হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত