আজ সংবিধান দিবস

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৩২ পিএম

বাংলাদেশের সংবিধান দিবস আজ। ১৯৭২ সালের এই দিনে গণপরিষদে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের সংবিধান আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয় এবং একই বছরের ১৬ ডিসেম্বর থেকে তা কার্যকর হয়। 

সংবিধান একটি স্বাধীন দেশের জন্য এক অনন্য অর্জন। সংবিধান কেবল একটি আইনি দলিল নয়। এটি একটি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক দর্শনের প্রতিচ্ছবি। আর এই দর্শনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হলো ‘সাংবিধানিক প্রাধান্য’ বা কনস্টিটিউশনাল সুপ্রিমেসি। 

সাংবিধানিক প্রাধান্য আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পূর্বশর্ত। এর অর্থ হলো দেশের সকল নাগরিক আইনের চোখে সমান এবং কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। খবর বাসস 

সাংবিধানিক প্রাধান্য বলতে বোঝায় যে রাষ্ট্রের সীমানার মধ্যে সংবিধানই হলো সর্বোচ্চ আইন। রাষ্ট্রের তিনটি মূল অঙ্গ হলো আইনসভা (সংসদ), শাসনবিভাগ (সরকার) ও বিচারবিভাগ তাদের সব ক্ষমতা প্রাপ্ত হয় সংবিধান থেকে এবং তাদের সব কাজ পরিচালিত হতে হয় সংবিধানের গণ্ডির মধ্যে থেকে।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদে সাংবিধানিক প্রাধান্যের বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলা আছে।  

এই সংবিধানের ৭(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে  ‘প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হইবে।’

এ ছাড়া সংবিধানের ৭(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়, ‘এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোন আইন যদি এই সংবিধানের সহিত অসামঞ্জস্য হয়, তাহা হইলে সেই আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হইবে।’ অর্থাৎ এমন কোনো আইন পাস করা যাবে না, যা সংবিধানের মূল কাঠামোর পরিপন্থী।

সাংবিধানিক প্রাধান্য যেসব বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এর মধ্যে সংবিধানে নাগরিকদের জীবন, স্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতা, চলাফেরা ও সমাবেশের অধিকারসহ নানা মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। সাংবিধানিক প্রাধান্য এটা নিশ্চিত করে যে রাষ্ট্র বা সরকার চাইলেই নাগরিকদের এসব অধিকার খেয়াল খুশিমতো খর্ব করতে পারবে না।

তাছাড়া রাষ্ট্রের কোনো একটি অঙ্গ যেন অতিরিক্ত ক্ষমতাশালী হয়ে স্বৈরাচারী রূপ নিতে না পারে, তা নিশ্চিত করে সংবিধান। আইনসভা আইন তৈরি করবে, শাসনবিভাগ তা প্রয়োগ করবে ও বিচারবিভাগ তা ব্যাখ্যা করবে-এই ‘চেকস অ্যান্ড ব্যালেন্স’ বা ক্ষমতার ভারসাম্য সাংবিধানিক প্রাধান্যেরই ফসল।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত