ঘরের মাঠে সিরিজ হার এড়ানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে আজ সিলেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে ঢাকায় ৮ উইকেটে হেরে ০-১ ব্যবধানে পিছিয়ে আছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ফলে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টটি বাংলাদেশের জন্য সমতা ফেরানোর লড়াই। অন্যদিকে, প্রথম টেস্ট জিতে আত্মবিশ্বাসী ক্যারিবীয়দের সামনে সিরিজ জয়ের হাতছানি। বাংলাদেশের মাটিতে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের অপেক্ষারও অবসান ঘটানোর সুযোগ তাদের।
ঢাকা টেস্টে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা ছিল ব্যাটিং ও স্পিন বোলিং বিভাগে। প্রথম ইনিংসে ভালো অবস্থানে থেকেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেননি স্বাগতিকরা। দুই ইনিংসে সফরকারী স্পিনাররা ১৬ উইকেট পান। বিপরীতে বাংলাদেশের স্পিনাররা পেয়েছেন মাত্র ৮ উইকেট, সবই প্রথম ইনিংসে। বিশেষ করে তাইজুল ইসলামের সাম্প্রতিক ফর্ম ভাবাচ্ছে দলকে। সর্বশেষ চার টেস্টে তার শিকার মাত্র ৫ উইকেট। জানা গেছে, এমনকি সিলেটে তাকে ছাড়াই একাদশ সাজানোর চিন্তা করছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
বাংলাদেশের প্রধান কোচ ফিল সিমন্সও তাইজুলের ফর্ম নিয়ে উদ্বেগের কথা গোপন করেননি। গতকাল সিলেটে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়। কারণ সে আমাদের দলের অন্যতম প্রধান স্পিনার। তাই বিষয়টি চিন্তার কারণ হওয়াই স্বাভাবিক। আমি নিশ্চিত, তাইজুল নিজেও বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত। তার সঙ্গে কথা বললেও বোঝা যায়, বিষয়টি তাকে যেমন ভাবাচ্ছে, দলকেও ভাবাচ্ছে। কারণ সে আমাদের দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র।’
তবে বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির খবর, চোট কাটিয়ে ফিরছেন মুশফিকুর রহিম। লিটন দাসও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেছেন বলে জানা গেছে। যদিও আরেক অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক নেই। তার অনুপস্থিতিতে তিন নম্বরে ব্যাট করার কথা অধিনায়ক শান্তর। মুশফিকের প্রত্যাবর্তন অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ করবে ব্যাটিং লাইনআপকে। পাশাপাশি সিলেটের উইকেটেও আশার জায়গা দেখছে স্বাগতিকরা। গত এপ্রিলে পাকিস্তানের বিপক্ষে এই মাঠে জয় পায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। লাক্কাতুরায় ছয় টেস্টে তিন জয় ও তিন হারের রেকর্ড থাকলেও পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের স্মৃতি বাড়তি অনুপ্রেরণা জোগাবে বাংলাদেশ দলকে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট টেস্টের উইকেট প্রসঙ্গে সিমন্স বলেন, ‘এটা অনেকটা সে রকম, যেমনটি আমরা এখানে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলতে এসে দেখেছিলাম।’ অর্থাৎ, ব্যাটারদের পাশাপাশি পেসার ও স্পিনারদের জন্যও সুযোগ থাকতে পারে। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে ব্যাটিংয়ে বড় পরিবর্তন আনতে হবে বাংলাদেশকে। সিমন্সের কথায়ও একই সুর, ‘ছেলেরা কঠোর পরিশ্রম করছে। ডারউইনের আগে কিংবা পাকিস্তান সিরিজের আগে আমরা যেভাবে, যে তীব্রতা ও মানসিকতা নিয়ে কাজ করেছিলাম, এখনো তারা একইভাবে কাজ করছে। কিন্তু ম্যাচে সেটি বাস্তবায়ন করতে পারছে না। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, আবারও যেন সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারি, যেখানে অনুশীলনের পাশাপাশি ম্যাচেও নিজেদের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার প্রতিফলন ঘটাতে পারব।’
অন্যদিকে, সিলেটে জয়ের ব্যাপারে বেশ আত্মবিশ্বাসী ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দলটির প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামির লক্ষ্য শুধু সিরিজ অক্ষত রাখা নয়, বাংলাদেশের মাটিতে ২-০ ব্যবধানে জয়। এ নিয়ে স্যামি বলেন, ‘এটি অনেক বড় অর্জন হবে। আপনারা জানেন, এই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের আগে বাংলাদেশ বেশ ভালো ক্রিকেট খেলেছে। ফিলের (সিমন্স) কোচিংয়ে দলটি ভালো করেছে। সর্বশেষ যখন আমরা এখানে বাংলাদেশকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছিলাম, তখন আমার মনে হয় ফিলই তাদের কোচ ছিলেন। এখানে এসে আবারও ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিততে পারলে সেটি আমাদের জন্য অসাধারণ একটি সমাপ্তি হবে।’
প্রথম টেস্টে রোস্টন চেজ ও জোমেল ওয়ারিকানের ৫ উইকেট করে শিকারের পাশাপাশি ব্যাট হাতে জন ক্যাম্পবেল, ত্যাগনারাইন চন্দরপল ও ব্র্যান্ডন কিংয়ের অবদান ওয়েস্ট ইন্ডিজকে এগিয়ে রেখেছে। এবারও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায় দলটি। স্যামির স্পষ্ট ঘোষণা, ‘আমরা এখানে জিততেই এসেছি।’