রোবট ও উদ্ভাবনের উৎসবে মুখর বিএইউএসটি

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০২:২৪ পিএম

রোবটের মাঠে প্রতিযোগিতা, হাতে তৈরি প্রযুক্তিপণ্যের প্রদর্শনী আর নতুন নতুন উদ্ভাবনী ধারণা। কোথাও রোবটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ব্যস্ত শিক্ষার্থীরা, কোথাও নিজেদের প্রকল্পের কার্যকারিতা তুলে ধরছেন তারা। এমন আয়োজনের মধ্য দিয়ে নীলফামারীর সৈয়দপুরে বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে (বিএইউএসটি) শেষ হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘ইইই ফেস্ট ২০২৬’। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত তিনদিন ব্যাপী এ উৎসবে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। পাশাপাশি রুবিকস কিউব প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরাও।

 বুধবার (৪ নভেম্বর) উৎসবের শেষ দিনে অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় পর্যায়ের প্রজেক্ট শোকেসিং। এতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের তৈরি প্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্প প্রদর্শন করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মোবারক হোসেন মজুমদার, পিএসসি প্রতিটি প্রকল্প ঘুরে দেখেন।

তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রকল্পের ধারণা, কার্যকারিতা ও উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন এবং সেগুলো আরও সমৃদ্ধ করার বিষয়ে পরামর্শ দেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে উদ্ভাবনী চিন্তা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানের মাধ্যমে কার্যকর সমাধান বের করতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।

 প্রকল্প প্রদর্শনীর পর অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় পর্যায়ের রোবো সকার ও মিনি রোবো সকার প্রতিযোগিতা। এতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের তৈরি রোবট নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। রোবটের কৌশল ও নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতাগুলো প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। পরে অনুষ্ঠিত লাইন ফলোয়ার রোবট প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা রোবট নির্মাণ, প্রোগ্রামিং ও নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা তুলে ধরেন।

 এদিন গবেষণায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজন করা হয় ‘রিসার্চ মেথডোলজি ফর ইঞ্জিনিয়ারিং স্টুডেন্টস: ফ্রম প্রপোজাল টু পাবলিকেশন’ শীর্ষক সেমিনার। এতে বক্তব্য দেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরের অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান। প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের গবেষণার প্রস্তাবনা তৈরি থেকে শুরু করে গবেষণাপত্র প্রকাশ পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপ ও পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।

 বিকালে প্রতিযোগিতা ও সেমিনার শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) ড. মো. শামীম রেজা। পরে ইইই বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এর মধ্য দিয়ে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতার সমন্বয়ে সাজানো তিন দিনব্যাপী উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ সালাহউদ্দিন নয়ন, পিএসসি (অব.), ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. আতিকুর রহমান, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, প্রক্টর, ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা, বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তরের প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগের দিন মঙ্গলবার(৩ নভেম্বর) উৎসবে শিক্ষার্থীদের জন্য কমসোল মাল্টিফিজিকস সফটওয়্যারের ওপর একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় অর্জিত জ্ঞান বাস্তবে প্রয়োগের সুযোগ তৈরি করতে পরে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এদিন বিকেলে অনুষ্ঠিত ট্রেজার হান্ট প্রতিযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ৪১টি দলের মোট ১২৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। প্রতিযোগিতাকে ঘিরে ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ে উৎসাহ-উদ্দীপনা।

উৎসবের প্রথম দিন সোমবার(২ নভেম্বর) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বেলুন উড়িয়ে ও কেক কেটে আয়োজনের উদ্বোধন করেন উপাচার্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মোবারক হোসেন মজুমদার, পিএসসি। এদিন কুইজ, ইনডোর ও অনলাইন গেমিং প্রতিযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। পাশাপাশি রুবিকস কিউব প্রতিযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা নিজেদের দক্ষতা ও দ্রুততার পরিচয় দেন। দিনের শেষ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় পর্যায়ের টেকনিক্যাল পোস্টার প্রেজেন্টেশন প্রতিযোগিতা। এতে অংশগ্রহণকারীরা পোস্টারের মাধ্যমে নিজেদের উদ্ভাবনী ধারণা ও প্রযুক্তিগত চিন্তাভাবনা তুলে ধরেন।

ইইই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ড. মোছা. রুবিনা আক্তারের সার্বিক পরিচালনায় উৎসবটি অনুষ্ঠিত হয়। বিএইউএসটি ইইই অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতায় আয়োজিত এ উৎসবের স্পনসর ছিল হিকভিশন বাংলাদেশ ও বেটকো ইঞ্জিনিয়ারিং। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কালচারাল ক্লাব, রোবোটিকস ক্লাব ও ফটোগ্রাফিক আই বিভিন্ন আয়োজনে সহযোগিতা করে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত