হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী নেতা জশুয়া ওংয়ের আরও ১০ বছরের কারাদণ্ড

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম

হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনের পরিচিত মুখ জশুয়া ওংকে বিদেশি শক্তির সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগে আরও ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দেওয়া এ রায়ের ফলে ২০৩৬ সালের শেষের আগে তাঁর মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। চীনের জাতীয় নিরাপত্তা আইনে এটি তাঁর দ্বিতীয়বারের মতো দণ্ডিত হওয়ার ঘটনা। খবর এএফপি।

৩০ বছর বয়সী ওং এরই মধ্যে প্রায় ছয় বছর কারাগারে কাটিয়েছেন। এর আগে একই আইনে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে চার বছর আট মাসের সাজা হয়েছিল তাঁর। আগামী জানুয়ারিতে মুক্তি পাওয়ার কথা থাকলেও গত বছরের জুনে তাঁকে আবারও অভিযুক্ত করে হংকং কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ ছিল, হংকং ও চীনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার সঙ্গে যোগসাজশ করেছেন তিনি।

এ মামলায় তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আশঙ্কা ছিল। তবে আদালত প্রাথমিকভাবে ১৩ বছরের সাজা নির্ধারণ করেন। পরে দোষ স্বীকার করায় তা কমিয়ে ১০ বছর করা হয়।

আদালতে দেওয়া এক চিঠিতে ওং বলেন, নতুন অভিযোগে তাঁর মনে হয়েছে, তিনি আবারও সবকিছু শুরুর জায়গায় ফিরে গেছেন। তবে অতীত দিয়ে তাঁর ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে না। কারাগারে কাটানো সময়কে জীবনের সবচেয়ে গভীর শিক্ষার সময় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

২০১৪ সালের আমব্রেলা মুভমেন্টের মধ্য দিয়ে আলোচনায় আসেন ওং। ২০১৯ সালের গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনের সময় হংকংয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুযোগ তৈরির একটি বিলের পক্ষে তদবির করেন তিনি। পরে বিলটি পাস হয়। ২০২০ সালে চীন হংকংয়ে জাতীয় নিরাপত্তা আইন কার্যকর করলে ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগ ওঠে। ওই সময় ওং বলেছিলেন, তাঁকে নীরব না করা পর্যন্ত হংকংয়ের পক্ষে লড়াই চালিয়ে যাবেন।

ওংয়ের সাজার নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, তাইওয়ান ও পশ্চিমা মানবাধিকার সংগঠনগুলো। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, হংকংয়ে মৌলিক স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলা ব্যক্তিদের নীরব করতে চীন ব্যাপক পদক্ষেপ নিচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এ সাজাকে ‘নিষ্ঠুর ও অন্যায়’ বলে অভিহিত করে দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছে।

অন্যদিকে চীন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে হংকংয়ের পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী জন লি বলেছেন, ওং আইনের প্রতি সম্পূর্ণ অবজ্ঞা দেখিয়েছেন।

সাজার দিন আদালত প্রাঙ্গণে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল। রায় ঘোষণার পর সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে হাত নাড়েন ওং। এ সময় কয়েকজন সমর্থক কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্বেচ্ছানির্বাসনে থাকা হংকংয়ের সাবেক ছাত্রনেতা নাথান ল এ সাজাকে ‘প্রহসন’ বলে মন্তব্য করেছেন।

ওংয়ের দীর্ঘদিনের সমর্থক ৬১ বছর বয়সী মার্গারেট চ্যান বলেন, তাঁর মুক্তির সময় তিনি মধ্যবয়সে পৌঁছে যাবেন—এ কথা ভেবে তিনি ভীষণ মর্মাহত। আরেক সমর্থক ইটি ওং বলেন, হংকংয়ের জন্য নিজের সবকিছু উৎসর্গ করা একজন মানুষের এমন পরিণতিতে তিনি কেঁদেছেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত