বিশ্ববাজারে তেলের দাম দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্নে

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৪ পিএম

ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটতে পারে—এমন আশাবাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম গত ৭ অক্টোবরের পর প্রথমবারের মতো ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। 

এদিন ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৮ ডলার বা ৮ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ ডলারে দাঁড়ায়। একই হারে কমে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম দাঁড়ায় প্রায় ৮৮ দশমিক ১২ ডলারে। গত এপ্রিলের পর এক দিনে তেলের দামে এটিই ছিল সবচেয়ে বড় পতন।

গত শুক্রবার ব্রেন্ট তেলের দাম একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৮ ডলারে উঠেছিল। তবে মাত্র তিন কার্যদিবসের ব্যবধানে দরপতনের ফলে দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, তেলের দাম কমার প্রভাব শিগগিরই ভোক্তা পর্যায়ে পড়তে পারে। জ্বালানি মূল্যবিষয়ক প্রতিষ্ঠান গ্যাসবাডির বিশ্লেষক প্যাট্রিক ডি হান জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের গড় দাম গ্যালনপ্রতি ৪ ডলারের নিচে নেমে আসতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের পরাজয়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধের অবসানে উদ্যোগী হতে পারেন—এমন প্রত্যাশা তেলের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছিল। এতে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রল ও ডিজেলের দাম বেড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও তীব্র হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরান যুদ্ধের কারণেই মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টিকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। অন্যদিকে ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন, যুদ্ধের কারণে পেট্রলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের গড় দাম ছিল গ্যালনপ্রতি ৪ দশমিক ১২ ডলার, যা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ইরানে সামরিক অভিযান শুরুর আগের তুলনায় ৩৯ শতাংশ বেশি।

এদিকে ডিজেলের দাম কমার বিষয়টিও অর্থনীতিবিদদের নজর কেড়েছে। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেল ফিউচার্সের দাম প্রায় ৭ শতাংশ কমে গত আগস্টের শেষ দিকের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে।

বিশ্লেষকদের মতে, ডিজেলের দাম কমলে পরিবহন খাতে ব্যয় হ্রাস পাবে। কারণ দেশের বিভিন্ন স্থানে খাদ্যপণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনে ডিজেলচালিত যানবাহন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে ডিজেলের দাম বাড়লে তার প্রভাব দ্রুত পণ্যের বাজারে পড়ে, আর দাম কমলে ভোক্তারাও স্বস্তি পেতে পারেন।

তবে সাম্প্রতিক দরপতন সত্ত্বেও বছরের শুরুতে থাকা দামের তুলনায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম এখনো প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত