শেখ হাসিনাকে পাসপোর্ট দেওয়ার প্রশ্নই আসে না: হুমায়ুন কবির

পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস নয়, প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ভারতের কাছ থেকে হস্তান্তর চায় বাংলাদেশ।

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম

ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস দেওয়ার প্রসঙ্গকে ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনাকে সাধারণ যাত্রীর মতো দেশে ফেরার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচ্য নয়। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কার্যকর প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী তাকে হস্তান্তর করার সুযোগ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকায় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের ঢাকা সফর শেষে তাকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদায় জানাতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দেওয়া আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাসের জন্য আবেদন করেছেন কি না, এমন প্রশ্ন করা হলে হুমায়ুন কবির জানান, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডায় অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের বৈঠক থেকে বৃহস্পতিবার দেশে ফিরেছেন তিনি। তাই এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানেন না।

তবে পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস দেওয়ার প্রসঙ্গটি তার কাছে হাস্যকর মনে হয়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের আটক বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের প্রয়োজন হয় না। এ জন্য প্রত্যর্পণ চুক্তি এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে দাবি জানানো হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে কার্যকর প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের হস্তান্তরের সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও আইনি প্রক্রিয়াও বিদ্যমান রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে গত নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে ওই আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে শেখ হাসিনা তার বিরুদ্ধে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। মৃত্যুর সংখ্যা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তার আইনজীবীরা।

শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়ার পর থেকেই ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। তাকে ফেরত দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ কয়েক দফায় ভারতের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত দিল্লির পক্ষ থেকে ইতিবাচক কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা জানিয়ে আসছে ভারত।

এদিকে, বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বর নাগাদ বাংলাদেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তার দেশে ফেরার সম্ভাবনা এবং প্রত্যর্পণ নিয়ে দুই দেশের অবস্থান এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত