নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে (এনএসইউ) ইতিহাস শিক্ষার গুরুত্ব এবং কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও সমাজের মধ্যে শিক্ষাগত ও বুদ্ধিবৃত্তিক সংযোগ জোরদারের লক্ষ্যে একাডেমিক আউটরিচ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট হলে ‘হোয়াই হিস্ট্রি ম্যাটার্স: কানেক্টিং কলেজ, এনএসইউ, অ্যান্ড সোসাইটি’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে এনএসইউর ইতিহাস ও দর্শন বিভাগ।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নেছার ইউ. আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক সালিমুল্লাহ খান এবং অফিস অব রিসার্চের পরিচালক অধ্যাপক নরম্যান কে. সোয়াজো।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন ইতিহাস ও দর্শন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. পারভেজুর রহমান। সমাপনী বক্তব্য ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন স্কুল অব হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের ডিন অধ্যাপক মো. রিজওয়ানুল ইসলাম।
সেমিনারে ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এর মধ্যে ছিল ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, হলি ক্রস কলেজ, আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, হার্ডকো ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নবাব হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজ এবং সিদ্ধেশ্বরী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।
সেমিনারের মূল লক্ষ্য ছিল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ইতিহাস শিক্ষার মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করা। পাশাপাশি জ্ঞানভিত্তিক, দায়িত্বশীল ও সচেতন সমাজ গঠনে ঐতিহাসিক জ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক নেছার ইউ. আহমেদ ইতিহাস শিক্ষাকে আরও আকর্ষণীয় ও ব্যবহারিক করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, “ইতিহাস এমনভাবে পড়াতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা বিষয়টির প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে। পাশাপাশি, বাস্তব জীবনে ইতিহাসের প্রয়োগ ও উপযোগিতাও তাদের সামনে তুলে ধরতে হবে।”
অধ্যাপক সালিমুল্লাহ খান বলেন, ‘ইতিহাস কেবল অতীতকে বোঝার বিষয় নয়; বরং বর্তমানকে অনুধাবন এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের দৃষ্টিভঙ্গি অর্জনেরও একটি মাধ্যম।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সময়ের জটিলতা বুঝতে এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত হতে অতীত সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি।’
অধ্যাপক নরম্যান কে. সোয়াজো ইতিহাস ও দর্শনের পারস্পরিক সম্পর্ক তুলে ধরে বলেন, ‘ইতিহাস যেমন জ্ঞান ছাড়া অসম্ভব, তেমনি ইতিহাসের জ্ঞান ছাড়া দর্শনকেও যথাযথভাবে অনুধাবন করা সম্ভব নয়।’
সেমিনারের সঞ্চালক অধ্যাপক মো. পারভেজুর রহমান ‘কমিউনিটি-এনগেজড হিস্ট্রি’ ধারণার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইতিহাসের শিক্ষা শুধু শ্রেণিকক্ষের চার দেয়ালে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। বরং সমাজের সেই বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকেও ইতিহাস চর্চার আওতায় আনতে হবে, যাদের দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বহীন বিবেচনা করা হয়েছে এবং ঐতিহাসিক বর্ণনা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
আলোচনা পর্বে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বসুন্ধরা শাখার প্রধান শিক্ষিকা ডালিয়া নার্গিস বিষয় নির্বাচনে অভিভাবকদের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘শুধু শিক্ষক নন, বিষয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে অভিভাবকদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মানবিক বিভাগের বিষয়গুলোতে ভবিষ্যৎ নেই - এমন মানসিকতাই মূল সমস্যার জায়গা। এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।’
সমাপনী বক্তব্যে অধ্যাপক মো. রিজওয়ানুল ইসলাম আমন্ত্রিত অতিথি, অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, প্রতিটি বিষয়ের সঙ্গেই ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে।
আয়োজকদের মতে, কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে ইতিহাস বিষয়ে আগ্রহ তৈরি, উচ্চশিক্ষায় ইতিহাস ও গ্লোবাল স্টাডিজের সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা দেওয়া এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়াতে সেমিনারটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।