ক্যামেরার জন্য হত্যা করা হয় শাওনকে

ক্যামেরা ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় কলেজছাত্র শাওন বড়ুয়াকে (২৫) হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ হত্যকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ইমতিয়াজ আলম মুরাদ (২১), আশহাদুল ইসলাম ইমন (২৪), মো.  তৌহিদুল আলম (২৩), মো. বাহার (২২) ও মো. আলমগীর (৩০)। পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে।

তাদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সোমবার দুপুরে নগরের মোহরার একটি ক্লাবে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে ছবি তোলার কাজ আছে বলে শাওনকে ফোন করেন পরিচিত বড়ভাই জনি। অগ্রিম হিসাবে বিকাশের মাধ্যমে শাওনের কাছে ৫০০ টাকা পাঠানো হয়। পরিচিত একজনের কাছ থেকে ক্যামেরা সংগ্রহ করে সোমবার সন্ধ্যায় ক্লাবের দিকে রওনা দেন শাওন। কিন্তু ওই ক্লাবে হলুদের অনুষ্ঠান হচ্ছে না জানিয়ে শাওনকে মোটরসাইকেলে করে অনন্যা আবাসিকের ভেতরে নিয়ে যায় মুরাদ। সেখানে আগে থেকে ওঁৎ পেতে ছিল ইমনসহ অনন্যরা। এক পর্যায়ে শাওনকে নির্জন এলাকায় নিয়ে ক্যামেরার ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে তারা। ব্যাগ না দেওয়ায় শাওনকে উপর্যপুরি ছুরিকাঘাত করে ভয় লাগানোর চেষ্টা করে। তাতেও কাজ না হওয়ায় বারবার ছুরিকাঘাত করে শাওনের মৃত্যু নিশ্চিত করে তারা।

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চান্দগাঁও থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান নগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (উত্তর) পঙ্কজ দত্ত।

তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পাওয়া একটি মুঠোফোনের সুত্র ধরে আসামিদের শনাক্ত করা হয়। প্রথমে বাহির সিগন্যাল এলাকা থেকে ইমনকে, পরে তার তথ্যে বাকিদের নগরের বিভিন্ন জায়গা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাহারের কাছ থেকে ছিনতাই করা ক্যামেরা ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।’

পঙ্কজ দত্ত আরও বলেন, ‘গ্রেপ্তার আসামিরা খুবই ধূর্ত। মোবাইল, মানিব্যাগ কিংবা মোটরসাইকেল ছিনতাই করলে তাদের ধরা সহজ হবে জেনে তারা শুধু ক্যামেরা নিয়ে চলে যায়।’

এর আগে মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে চান্দগাঁও থানাধীন অনন্যা আবাসিক এলাকার সড়কের পাশ থেকে শাওনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।