ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে ভারী বৃষ্টিতে মুন্সীগঞ্জের ৬ উপজেলার বিস্তীর্ণ সবজির ক্ষেত তলিয়ে গেছে। এখনও দিগন্ত জুড়ে থাকা সবজির জমি পানিতে থৈ-থৈ করছে। আর সবজিক্ষেত পানিতে তলিয়ে কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে কৃষকের। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে এতে ক্ষতির পরিমাণ ৩১ কোটি টাকা।
আজ মঙ্গলবার সরেজমিন জেলা সদরের বজ্রযোগিনী, মহাকালী ও রামপাল ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে এসব চিত্র দেখা গেছে। জমিতে আবাদ করা করলা, কহি, ধুন্দল, লাউ, শষা, কুমড়া, ঝিঙা ও বেগুন পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে।
জানা গেছে, আলু উত্তোলনের মৌসুম শেষে ফেব্রুয়ারি ও মার্চে রাজধানীর কাছের জেলা মুন্সীগঞ্জের উপজেলাগুলোতে সবজির আবাদ করেন কৃষকরা। সাধারণত উচু জমিতেই আলুর আবাদ করেন তারা। গত সপ্তাহে ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে টানা দু’দিন ভারী বৃষ্টি হয়। এতে পানিতে তলিয়ে একাকার হয়েছে সবজির বাগান।
সদর উপজেলার বজ্রযোগিনী ইউনিয়নের বজ্রযোগিনী গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম পান্না জানান, তিনি ৮০ শতাংশ জমিতে করলা ও লাউ আবাদ করেন। এতে তার খরচ হয়েছে ৭০ হাজার টাকা। এই মধ্যেই সবজি পরিপক্ক হয়ে শুরু করেছিল। কিন্তু ঘূর্ণিঝড়ের কারণে জমির সব সবজি তলিয়ে গেছে।
একই গ্রামের কৃষক জুলহাস শেখ বলেন, ৫০ শতাংশ জমিতে করলা, লাউ, ধুন্দুল ও শসা আবাদ করেছিলাম। এতে খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। এখন সব সবজি পানির নীচে। তিল পরিমাণ সবজি বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে পারিনি। এখন আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি।
সদর উপজেলার রামপাল ইউনিয়নের সরস্বতী গ্রামের কৃষক মো. আব্দুল কাদিরের ৭৫ শতাংশ সবজি বাগান পানিতে তলিয়ে গেছে। সেখানে আবাদ করা ঝালি কুমড়া, লাউ, করলা ও বেগুন এখন পানির নীচে। কৃষক আব্দুল কাদির দেওয়ান বলেন, সবজি ফলাইয়া খরচ হইছে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। এহন পর্যন্ত বাগানের সাড়ে তিন হাজার টাকার সবজি বিক্রি করতে পারছি।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, চলতি বছর জেলা সদরে ৭৮০ হেক্টর জমিতে সবজি আবাদ করা হয়েছে। এরমধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে পানিতে তলিয়ে গেছে ১২০ হেক্টর জমির সবজি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিপ্লব কুমার মোহন্ত বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে জেলায় আবাদ করা ৪ ভাগের একভাগ জমির সবজি নষ্ট হয়েছে। এ জেলায় এ বছর সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ২ হেক্টর জমির সবজি নষ্ট হয়েছে। এতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩১ কোটি টাকা।