ইরানের রাজধানী তেহরানে গুপ্তহত্যার শিকার হয়েছেন ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসের রাজনৈতিক শাখার প্রধান ইসমাইল হানিয়া। একই দিন লেবাননে ইসরায়েলের এক হামলায় নিহত হয়েছেন সশস্ত্রগোষ্ঠী হিজবুল্লাহর শীর্ষ এক কমান্ডার। এসব হামলার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করে চরম ক্ষুব্ধ ইরান ও তার সমর্থিত মিত্র বাহিনী।
এসব হত্যাকাণ্ডে কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের সশস্ত্র সংগঠনগুলোর। এরইমধ্যে ইসরায়েলে সরাসরি হামলার নির্দেশও দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি।
এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা জাহাজ এবং যুদ্ধবিমান মোতায়েনের পাশাপাশি ইসরায়েলে নতুন করে সামরিক সহায়তা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন বলছে, তারা ইসরায়েলের প্রতিরক্ষার জন্য সমর্থন বাড়াতে চায়। খবর আল রয়টার্স ও বিবিসি।
এক বিবৃতিতে পেন্টাগন জানিয়েছে, ‘নতুন যুদ্ধ জাহাজ ও যুদ্ধ বিমান মোতায়েন মার্কিন বাহিনী সুরক্ষার উন্নতি ঘটাবে পাশাপাশি ইসরায়েলের প্রতিরক্ষার জন্য সমর্থন বাড়াবে। এছাড়া নিশ্চিত করবে যে যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে বিভিন্ন অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে সাড়া দিতে প্রস্তুত।‘
পেন্টাগন জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে রণতরী ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্টের পরিবর্তে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন পাঠানো হয়েছে। এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, প্রতিরক্ষাসক্ষম ক্রুজার, ডেস্ট্রয়ার এবং একটি নতুন ফাইটার স্কোয়াড্রন পাঠানোর কথা জানিয়েছেন।
এর আগে ১৩ এপ্রিলে ইরান ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইসরায়েলি ভূখণ্ডে আক্রমণকে কেন্দ্র করে মধ্যেপ্রাচ্যে নিরাপত্তা জোরদার করেছিল মার্কিন সামরিক বাহিনী।
গোলাম মালভূমিতে হামলায় হতাহতের ঘটনার প্রতিশোধ নিতে মঙ্গলবার বৈরুতে হামলা চালায় ইসরায়েল। এ হামলায় নিহত হন হিজবুল্লাহ কমান্ডার ফুয়াদ শুকর। এর কয়েক ঘণ্টা পরই ইরানের রাজধানী তেহরানে হত্যা করা হয় হামাসের শীর্ষ নেতা ইসমাইল হানিয়াকে। তবে এ হত্যাকাণ্ডের দায় এখনও স্বীকার করেনি ইসরায়েল।