অবশেষে এক পদে স্থিত হলেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস। ছেড়ে দিতে হয়েছে প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ, তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী-১, আউটার রিং রোডের প্রকল্প পরিচালক, বিশেষ প্রকল্প ছাড়পত্র কমিটির সভাপতি, ইমারত নির্মাণ কমিটি-১ ও ইমারত নির্মাণ কমিটি-২ এর সভাপতির পদ। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে পদ বঞ্চিত দুই প্রকৌশলী তাদের পদ পেলেন।
সিডিএ’র সচিব রবীন্দ্র চাকমা স্বাক্ষরিত গত ১৫ আগস্টের অফিস আদেশে কাজী হাসান বিন শামসকে শুধুমাত্র প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে চলতি দায়িত্ব হিসেবে পদায়ন করা হয়। এছাড়া কাজী হাসান বিন শামস অতিরিক্ত যেসব দায়িত্ব পালন করতেন সেগুলো তিন প্রকৌশলীর মধ্যে ভাগ করে দেয়া হয়।
এর মধ্যে নির্বাহী প্রকৌমলী মনজুর হাসানকে তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী-১, নির্বাহি প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলামকে তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে চট্টগ্রাম সিটি আউটার রিং রোডের প্রকল্প পরিচালকের পদে এবং নির্বাহি প্রকৌশলী এ জি এম সেলিমকে প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের পদে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
নির্বাহি প্রকৌশলী এ জি এম সেলিম গত ১২ বছর ধরে পদহীন ছিলেন। ২০২৩ সালের নভেম্বরে অথরাইজড অফিসার হিসেবে পদায়ন করলেও পরবর্তীতে ২০২৪ এর এপ্রিলে তা বাতিল করা হয়েছিল। ফলে প্রায় কাজহীন অবস্থায় সিডিএতে সময় কাটিয়েছেন এই প্রকৌশলী।
অন্যদিকে সিডিএ’র নির্বাহি প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম ২০১৯ সালের জুনে বদলি হয়ে আসলেও তাকে কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে এই দুই প্রকৌশলী কাজ ছাড়াই সরকারি বেতন সুবিধাদি ভোগ করেছেন।
এ বিষয়ে প্রকৌশলী এ জি এম সেলিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রধান প্রকৌশলী দীর্ঘদিন ধরে অনেকগুলো পদ দখলে রেখেছিলেন। এখন ছেড়ে দেওয়ায় সকলে যার যার জায়গা থেকে কাজ করার সুযোগ পাবে।’
প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সিডিএ’র সিনিয়র প্রকৌশলী। এতোদিন আমাদের কাজের সুযোগ দেওয়া হয়নি। কাজ না করে কেউ থাকতে চায় না। এখন দায়িত্ব দেয়ায় নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করার সুযোগ এসেছে।’
কিন্তু দীর্ঘ এত বছর যে কাজ করা যায়নি। কাজী হাসান বিন শামসকে এসব পদ থেকে সরাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অনেক প্রভাব বিস্তার করলেও কাজের কাজ কিছু হয়নি। সর্বশেষ গত ৮ আগষ্ট প্রকৌশলীদের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছে। আর সেই ঘটনার পর থেকে মূলত: চাপ আসে কাজী হাসান বিন শামস থেকে অতিরিক্ত পদগুলো সরিয়ে নিয়ে অন্যান্যদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার।
এ বিষয়ে সিডিএ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইউনুছ বলেন, ‘আমি নিজেও প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামসকে অনুরোধ করেছি অতিরিক্ত পদগুলো ছেড়ে দিতে। তিনি আমার অনুরোধ রেখেছেন। প্রধান প্রকৌশলী ছাড়া বাকি পদগুলো ছেড়ে দেয়ায় যারা এতোদিন পদ পায়নি তাদের মধ্যে ভাগ করে দেয়া গেছে।’
সিডিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউনুছ আরও বলেন, ’প্রকৌশলী এ জি এম সেলিম এর আগে আমার অনুরোধে অথরাইজড অফিসার পদ ছেড়ে দিয়ে আমাকে সম্মানিত করেছিলেন। এখন অভিজ্ঞ এই প্রকৌশলীকে প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের পদ দেওয়া হয়েছে। আমার অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। অভিজ্ঞ ও নবীনদের সমন্বয়ে আমি আমার স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করে চট্টগ্রামবাসীর জন্য কিছু করে যেতে চাই।’
এদিকে প্রধান প্রকৌশলী ভারপ্রাপ্ত প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের পদ ছেড়ে দেয়ায় বিশেষ প্রকল্প ছাড়পত্র কমিটির সভাপতির পদ, ইমারত নির্মাণ কমিটি-১ ও ইমারত নির্মাণ কমিটি-২ এর সভাপতির পদও স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে যাবে প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের কাছে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগের পর সিডিএতেও অসন্তোষ বাড়তে থাকে। চারদিকে যখন পরিবর্তনের হাওয়া বইছে তখন সিডিএতে কয়েকজন প্রকৌশলীর মধ্যে পদ না পাওয়ার বিষয়টি চরম ক্ষোভের বহি:প্রকাশ ঘটে। আর এতে অপ্রীতিকর অবস্থা থেকে সিডিএকে রক্ষা করতে সিডিএ’র প্রকৌশলীরা একত্রিত হয়ে নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করে প্রধান প্রকৌশলীকে অতিরিক্ত পদগুলো ছেড়ে দিতে অনুরোধ জানায়। একই সাথে পদবঞ্চিত সিনিয়র দুই প্রকৌশলীকেও পদায়ন করা হয়।
এর আগে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অধিশাখা-১ এর যুগ্মসচিব শেখ নুর মোহাম্মদ। গত ৩০ জুলাই স্বাক্ষরিত স্মারক নম্বর-২৫.০০.০০০০.০১৩.১৯.০০১.১০-৩৬ এর প্রজ্ঞাপনে গণপূর্ত অধিদপ্তরের সিলেট জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সিভিল) ওম প্রকাশ নন্দীকে বদলিপূর্বক পুনরাদেশ না দেয়া পর্যন্ত সিডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে প্রেষণে পদায়ন করা করেছিলেন। কিন্তু এই পদে প্রধান প্রকৌশলী পদায়নে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ থাকায় গত ৩১ জুলাই তারিখের স্মারক নম্বর-২৫.০০.০০০০.০১৩.১৯.০০১.১০-৩৭ এর প্রজ্ঞাপনে ৩০ জুলাই তারিখের প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করা হয়েছিল।