ফুল হয়ে ফুটে রইল...

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৪, ০৭:৪১ এএম

ছবিটি ‘বিএএফ শাহীন কলেজ ফ্যাক্টস’ নামক একটি গ্রুপ থেকে শেয়ার দিয়ে লেখা হয়েছে, শহীদ আহনাফ; স্বৈরাচার পতনের পর পুনরায় শুরু হলো একাদশ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা। দেশের স্বার্থে তার এই আত্মত্যাগ বিএএফ শাহীন কলেজ ঢাকা ও বাংলাদেশ আজীবন মনে রাখবে।

১৭ বছর বয়সী শাফিক উদ্দিন আহমেদ আহনাফ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গত ৪ আগস্ট রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বরে গুলিতে নিহত হয়। পরদিন দেশ জুড়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ ও দেশত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর গতকাল রবিবার থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয় সরকার।

কিন্তু আন্দোলন শেষে রাজধানীর বিএফ শাহীন কলেজে আহনাফের সব সহপাঠী ক্লাস-পরীক্ষার টেবিলে ফিরলেও ফেরেনি আন্দোলনে বুলেটবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারানো আহনাফ। আহনাফের টেবিলটা আজ ফাঁকা। তার স্মরণে বন্ধুরা সেখানে ফুল রেখেছে। আহনাফের শোকাহত বন্ধুরা তাদের প্রিয় সহপাঠীকে ভোলেনি, কখনো ভুলতে পারবে না।

আহনাফ তার পরিবারের সদস্যদের বলত, বড় হয়ে এমন কিছু করবে, যার জন্য পরিবারের সদস্যরা তাকে নিয়ে গর্ব করবে। তবে আহনাফের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এভাবে তারা গর্বিত হতে চাননি। রাজধানীর বিএএফ শাহীন কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল আহনাফ। ২০২৫ সালে তার এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের পক্ষে শুরু থেকেই সোচ্চার ছিল আহনাফ। আন্দোলনে অংশ নিয়ে টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেটে আহত হয়ে সে একবার বাসায় ফিরেছিল। আন্দোলনে যেতে নিষেধ করলে আহনাফ তার মা আর খালাকে বলত, ‘তোমাদের মতো ভীতু মা-খালাদের জন্য ছেলেমেয়েরা আন্দোলনে যেতে পারছে না। ১৯৭১ সালে তোমাদের মতো মা-খালারা থাকলে দেশ আর স্বাধীন হতো না।’

আহনাফের মা সাফাত সিদ্দিকী ও খালা নাজিয়া আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, আন্দোলনে যেতে বাধা দিলেই আহনাফ বলত, সে সাঈদ-মুগ্ধ ভাইদের মতো সাহসী হতে চায়। তাদের মতো কিছু হলে তারা গর্ব করে বলতে পারবেন, ‘আমরা আহনাফের মা-খালা’। শেষ পর্যন্ত আহনাফ হয়েছেও তাই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত