কুমিল্লার গোমতী নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। এতে বন্যায় বিভিন্ন ক্ষত দৃশ্যমান হচ্ছে। কুমিল্লার তিতাস উপজেলার আসমানিয়া বাজার ও নারান্দিয়া গ্রামের যাতায়াতের একমাত্র নির্মীয়মাণ পাকা সেতুর পাশে নির্মিত ৭৫ মিটার দীর্ঘ কাঠের ভাঙা সেতুটির ক্ষত স্পষ্ট হয়েছে। সেতুটি ভেঙে পড়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে গ্রামের বাসিন্দারা।
জানা যায়, গত বুধবার (২১ আগস্ট) গোমতীর পানির স্রোতে ভেঙে যায় তিতাস উপজেলায় গোমতী নদীর ওপর নির্মীয়মাণ পাকা সেতুর পাশে নির্মিত ৭৫ মিটার দীর্ঘ কাঠের সেতুটি। সেতু ভেঙে সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এতে নদীর দুই পাশের ৪৩ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। সেতুটি দ্রুত নির্মাণ করে চলাচলের উপযোগী করে তুলতে দাবি জানান এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা বলেন, উপজেলার ৪৩টি গ্রামের বাসিন্দাদের সহজ যোগাযোগের জন্য এক বছর আগে আসমানিয়া বাজার ও নারান্দিয়া গ্রামের মধ্যে গোমতী নদীর ওপর এই সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল। বর্তমানে সেই কাজ বন্ধ রয়েছে। ভোগান্তি থেকে বাঁচতে নদীর দুই পারের মানুষের চলাচলের জন্য নির্মাণাধীন সেতুর পাশেই একটি বিকল্প সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু মুষলধারে বৃষ্টি ও গোমতী নদীর পানির প্রবল স্রোতে ওই কাঠের সেতুটি গত বুধবার (২১ আগস্ট) বিকেলে ভেঙে যায়। এতে নদীর দুই পারের মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। তারা আপাতত চার কিলোমিটার সড়ক ঘুরে দাসকান্দি দিয়ে চলাচল করছেন। নদীতে এখন প্রবল স্রোত থাকায় নৌকা বা ট্রলার চলাচল শুরু হয়নি।’
নারায়ণপুর ইউনিয়নের ভিটিকান্দি গ্রামের সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘মানুষের যাতায়াতের কাঠের সেতুটি গোমতীর পানি বাড়ায় ভেঙে যায়। এতে নদীর দুই পাশের মানুষের সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। আমাদেরকে এখন ৪-৫ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হচ্ছে। এখন পানি কমে গেছে। সেতুটি পুনরায় নির্মাণ দাবি জানান।’
গ্রামের আরেক বাসিন্দা কামরুজ্জা বলেন, ‘গোমতী নদীর উত্তর–পশ্চিম পাড়ের প্রায় ২৯টি গ্রামের শত শত মানুষ এই কাঠের সেতু দিয়ে যাতায়াত করতেন। গোমতী নদীতে কাঠের সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার সেতুটি ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। সেতু ভেঙে পড়ায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। এতে নদীর দুই পাড়ের লক্ষাধিক মানুষ ভোগান্তি পোহাচ্ছে।’
আসমানিয়া বাজারের দোকানদার কদমতলী গ্রামের বাসিন্দা হাসানুর রহমান বলেন, ‘কাঠের সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় আসমানিয়া বাজারের ব্যবসায়ীদের বিক্রি প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে। মানুষজন আসতে পারছে না। তিনি সেতুটি দ্রুত নির্মানের দাবি জানান।’
ভিটিকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য মোস্তাক হোসেন বলেন, ‘সেতু ভেঙে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নদীর উত্তর–পশ্চিম পারের অর্ধশতাধিক সিএনজি ও ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার চালকের আয় রোজগারও কমে গেছে।’
এ বিষয়ে তিতাস উপজেলা প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পানির স্রোত কমলে কাঠের সেতুটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এদিকে ৬ মাস হলো পাঁকা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করেছি। এর মধ্যে ৩০ ভাগ কাজ শেষ। নদীতে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা সকল নির্মাণাধীন সামগ্রিক নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়। তার মধ্যে কিছু পাথর নষ্ট হয়। বর্তমানে কাজ বন্ধ রয়েছে। নদীর পানি একটা পর্যায়ে গেলে পাইলিং এর কাজ আবার শুরু করব।’
তিতাস উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া মমিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তরে বলা আছে, নদীর পানি কমলে সেতুটি নির্মান কাজ শুরু করার জন্য।’