মাইক্রোফোন যখন তামিম ইকবালের হাতে, তখন সাবেক সতীর্থকে নিয়ে চুলচেঁড়া বিশ্লেষণ তো হবেই। দুজনের দ্বন্দ্ব থাকলেও এই মুহূর্তে ব্যক্তিগত কারণে সাকিবের সমালোচনা করছেন না তামিম। ধারাভাষ্যকার হিসেবে নিজের দায়িত্বটাই পালন করছেন। গত দুই দিনের ধারাবাহিকতায় আজ চেন্নাই টেস্টের তৃতীয় দিনেও সাকিবের কিছু বিষয়ে সমালোচনা করলেন তামিম ইকবাল।
ক্যারিয়ারের শেষপ্রান্তে থাকা সাকিব আল হাসান চেন্নাই টেস্টের প্রথম ইনিংসে বোলিংয়ে এসেছেন ৫৩তম ওভারে। দ্বিতীয় ইনিংসে দশম ওভারে এলেও স্বরূপে ধরা দিতে পারেননি। তার বোলিং তেমন কার্যকর ছিল না। বরং রিশাভ পান্ত আর শুবমান গিল তাকে বেদম প্রহার করেন। সফরে এবং কাউন্টি ক্রিকেটে ভালো বোলিং করে এলেও চেন্নাইয়ে বোলার সাকিবকে কেন এমন অচেনা মনে হচ্ছে, এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছিলেন সবাই।
আজ শনিবার ম্যাচের তৃতীয় দিন সকালে ভারতের সাবেক বাঁহাতি স্পিনার মুরালি কার্তিক ধারাভাষ্য দিতে গিয়ে বলেন, ‘তাকে (সাকিব) আমি দীর্ঘদিন ধরে চিনি। তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কী কারণে সে কম বোলিং করছে...সে আমাকে যা বলেছে, তা একজন স্পিনার হিসেবে আমি অনুধাবন করতে পারছি। তার বাঁ হাতের স্পিনিং ফিঙ্গারে একটা অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। সেটি এখন ফুলে গেছে, শক্ত হয়ে আছে। ওই আঙুলে সে বলের অনুভূতিটাও পাচ্ছে না। স্পিনার হিসেবে বলের অনুভূতিটা দরকার। এ ছাড়া তার কাঁধেও অস্বস্তি আছে।’
এরপর তামিম ইকবালের ধারাভাষ্যের পালা এলে তিনি মুরালি কার্তিকের বক্তব্যের প্রসঙ্গটি ফের তুলে ধরেন। তিনি যৌক্তিক একটা প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘মুরালি কার্তিক বলে গেছে, আঙুলের সমস্যার কারণে সাকিব বল গ্রিপ করতে পারছে না। যদি তা-ই হয়, তাহলে বাংলাদেশ চারজন ফ্রন্টলাইন বোলার নিয়ে খেলছে। টিম ম্যানেজমেন্টের অবশ্যই জানানো উচিত, তারা এই ইনজুরির কথাটা আগে থেকেই জানত কি না।’
গত একমাস ধরে সাকিব টানা খেলার মধ্যে আছেন। পাকিস্তান সফরের পর কাউন্টি খেলেছেন। এরপর সরাসরি গেছেন ভারত সফরে। এর মাঝে তার আঙুলে অস্ত্রোপচার হওয়ার তথ্যটা একেবারেই নতুন। টানা খেলার মাঝে কবে, কখন, তার আঙুলে অস্ত্রোপচার হলো- সেটাও একটা প্রশ্ন বটে। ১৫ সেপ্টেম্বর কাউন্টির ম্যাচ শেষে ১৭ সেপ্টেম্বর তিনি জাতীয় দলে যোগ দেন। আঙুলে অস্ত্রোপচার করিয়ে এত অল্প সময়ের মধ্যে সুস্থ হয়ে মাঠে ফেরা কি আদৌ সম্ভব?