মুরাদনগরে প্রস্তুত ১৪৫ পূজামণ্ডপ, প্রশাসনের কড়া নজরদারি

আগামীকাল বুধবার (৯ অক্টোবর) থেকে শুরু হতে যাচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। ইতোমধ্যে দুর্গাপূজার সকল ধরনের প্রস্ততি সম্পন্ন হয়েছে। এখন অপেক্ষা শুধুই উৎসবের। এ বছর কুমিল্লার মুরাদনগরে উপজেলার ২২ ইউনিয়নে ১৪৫ টি মণ্ডপে একযোগে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।

পূজাকে ঘিরে অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশ তৎপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রতিটি পূজা মণ্ডপেই থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারি। পাশাপাশি পূজা চলাকালীন সময়ে সকল প্রকার সাম্প্রদায়িক গুজব এড়িয়ে চলতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে চালানো হচ্ছে প্রচারণা।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমা তৈরির কাজ সম্পন্ন। কোনো কোনো মণ্ডপে সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার কাজ চলছে। ঐতিহ্যবাহী পোশাক আর গহনায় সাজানো হয়েছে প্রতিমা। দেবী দুর্গার সঙ্গে সাজিয়ে তোলা হয়েছে কার্তিক, গণেশ আর সরস্বতীকেও। উৎসবের আমেজ ছোট-বড় সবার মাঝে। সবার অপেক্ষা উৎসবের।

সনাতন পঞ্জিকা মতে, এ বছর ঘোটকে চড়ে দেবী দুর্গার আগমন হবে আর বিদায় নেবেনও ঘোটকে। সাধারণত শুক্ল পক্ষের ষষ্ঠ থেকে দশম দিন পর্যন্ত দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। এই পাঁচদিন যথাক্রমে মহাষষ্ঠী, মহাসপ্তমী, মহাঅষ্টমী, মহানবমী ও বিজয়া দশমী নামে পরিচিত। আগামী ৯ অক্টোবর মহাষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে পাঁচদিনব্যাপী শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ১৩ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের দুগোৎসব।

উপজেলা সদরে মন্দিরে মণ্ডপের দায়িত্বে থাকা অশোক কুমার ভৌমিক ও জুটন কুমার মোদক বলেন, আমাদের মণ্ডপের প্রতিমা তৈরির কাজ সম্পন্ন। এখন সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার কাজ চলছে। মণ্ডপগুলোকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে খুঁটিনাটি কিছু কাজ বাকি আছে।

উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক নিত্য নন্দ রায় বলেন, এ বছর উপজেলায় ১৪৫টি পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয় দুর্গাপূজা। মণ্ডপগুলোতে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। প্রশাসনের পাশাপাশি আমরাও পূজা চলাকালীন সময়ে সকল ধরনের গুজব থেকে দূরে থাকতে সকলকে পরামর্শ দিচ্ছি। এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলার পরিবেশ স্বাভাবিক আছে।

মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুল হক বলেন, আসন্ন দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিটা মণ্ডপে নজরদারি করবে পুলিশ সদস্যরা। কোনো রকম সাম্প্রদায়িক গুজব যেন না হয় সেজন্য সকলকে সচেতন থাকতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে প্রতিটি মণ্ডপে লাগানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা।