দেশের ৩২ হাজার ৬৬৬ পূজামণ্ডপে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৪, ০৩:২৩ পিএম

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে সারাদেশের পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এবারের দুর্গাপূজা ঘিরে ব্যাপক তৎপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আগামী বুধবার (৯ অক্টোবর) মহাষষ্ঠী পূজার মধ্যদিয়ে শুরু হবে দুর্গোৎসব। ১৩ অক্টোবর বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পাঁচদিনব্যাপী এই উৎসব শেষ হবে। সরকারি হিসেবে দেশে এ বছর ৩২ হাজার ৬৬৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে।

দুর্গাপূজায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ইতোমধ্যে মাঠ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য একগুচ্ছ নির্দেশনাও জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দেশের পূজামণ্ডপ গুলোতে থাকবে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থাও। 

প্রতিটি মণ্ডপকে ঘিরে গড়ে তোলা হয়েছে নিরাপত্তা বলয়। মণ্ডপে পূজা চলাকালে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি, র‌্যাব এবং অন্যান্য বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এবার সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থানে থাকতে উচ্চপর্যায় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে মাঠপর্যায়ে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি রাখছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। সাইবার স্পেসেও যে কোনো গুজব প্রতিরোধে নজর রাখা হচ্ছে। তারপরও যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, র‌্যাবের হেলিকপ্টারসহ স্ট্রাইকিং ফোর্স। গুরুত্বপূর্ণ মন্দিরগুলোর প্রবেশপথে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি করা হবে। প্রয়োজনে পুরো এলাকা ডগ স্কোয়াড ইউনিট দিয়ে সুইপিং করা হবে। 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রত্যেকটি ইউনিটের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক যে কোনো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত থাকতেও বলা হয়েছে। এর বাইরে মন্দিরের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবীরাও সার্বক্ষণিক তৎপর থাকবে। যে কোনো অসঙ্গতি দেখলে অবিলম্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিতে বলা হয়েছে। 

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, দুর্গাপূজাকে ঘিরে সুনির্দিষ্ট কোনো হুমকি বা হামলার তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। তারপরও শান্তিপূর্ণভাবে পূজা সম্পন্ন করতে শতভাগ নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। 

পুলিশ সদর দফতর জানিয়েছে, শারদীয় দুর্গাপূজা নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পুলিশ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ পুলিশ পূজারীগণকেও কিছু নিরাপত্তা পরামর্শ প্রদান করেছে। 

পরামর্শগুলো হলো- সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব অথবা ব্লগ ইত্যাদি এবং মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন কোনো অপরাধমূলক ঘটনা বা গুজব সৃষ্টি কিংবা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক শান্তি বিনষ্ট করতে না পারে সে বিষয়ে সতর্ক থাকা। এ ধরনের পরিস্থিতির উদ্ভব হলে পুলিশকে অবিলম্বে অবহিত করা।
এছাড়াও পূজামণ্ডপে আগত পুরুষ ও নারী দর্শনার্থীদের জন্য পৃথক প্রবেশ ও প্রস্থান পথের ব্যবস্থা রাখতে হবে। পূজামণ্ডপে কোনো ব্যাগ বা থলে নিয়ে প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা ও অগ্নিনির্বাপন যন্ত্রের ব্যবস্থা করতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপে আর্চওয়ে গেইট স্থাপন করতে হবে। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করতে হবে। স্বেচ্ছাসেবকদেরকে আলাদা পোশাক, দৃশ্যমান পরিচয়পত্র ও ‘স্বেচ্ছাসেবক’ লিখিত আর্মড ব্যান্ড প্রদান করতে হবে।

মণ্ডপগুলোর সভাপতি, সনাতন ধর্মাবলম্বী জনসাধারণ ও সংশ্লিষ্ট এলাকার নেতৃস্থানীয় ও গণ্যমান্য বক্তিবর্গের সাথে প্রয়োজনীয় মতবিনিময় করা হচ্ছে। এ ছাড়াও রেকিদল পূজা মণ্ডপগুলোতে স্থাপিত সিসি ক্যামেরা, জেনারেটর, পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক, মণ্ডপগুলোতে দুস্কৃতিকারীদের আক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং বিজিবির বেইজ ক্যাম্প স্থাপনের জন্য স্থান পরিদর্শন করেছেন। 

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর বলেন, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার আন্তরিক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি আমরাও প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে নিজস্ব নিরাপত্তার ব্যবস্থা করছি। সরকারের পক্ষ থেকে সারাদেশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ ও আনসার ইতোমধ্যে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। নিরাপত্তার বিষয়ে পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ পুলিশের মহাপরিদর্শক ও ডিএমপি কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সভা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবারের দুর্গাপূজায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। এতে আমরা সন্তোষ প্রকাশ করছি।

এদিকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনমনে আস্থা বৃদ্ধিতে সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপে বিজিবির টহল পরিচালনা করা হচ্ছে।

সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা, কালিগঞ্জ ও শ্যামনগর উপজেলায় সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত মোট ৩৯টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। গত ৩ অক্টোবর এসব পূজা মণ্ডপসমূহ ও আশেপাশের এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য বিজিবির নীলডুমুর ব্যাটালিয়ন (১৭ বিজিবি) এর সহকারী পরিচালক শাহ্ খালেদ ইমামের নেতৃত্বে ২টি পিকআপ যোগে ১ প্লাটুন বিজিবি সদস্য সকল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও রেকি কার্যক্রম সম্পন্ন করে।

আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পূজার নিরাপত্তা নিশ্চিতে দুই লাখের বেশি আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। 

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্ণেল মুনীম ফেরদৌস বলেন, প্রতিবারের মতো এ বছরও সারাদেশে ৩২ হাজারেরও বেশি পূজামণ্ডপে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে র‌্যাব। এ লক্ষ্যে দেশব্যাপী চেকপোস্ট, গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম বাড়িয়েছে র‌্যাব । পূজা উপলক্ষে যে কোনো ধরনের নাশকতা বা অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে র‌্যাবের কুইক রেসপন্স টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স নিয়োজিত থাকবে। এছাড়াও নিরাপত্তায় থাকবে ডগস্কোয়াড। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত