চট্টগ্রাম জেলার রাউজান, নগরের চান্দগাঁও এবং পাঁচলাইশ থানার পৃথক তিনটি মামলায় চট্টগ্রাম-৬ আসনের (রাউজান) সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৮দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে রাষ্ট্রপক্ষ এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষে পৃথক দুটি আদালত এই আদেশ দেন।
এদিন নিরাপত্তাজনিত কারণে আসামি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীকে আদালতে হাজির করা হয়নি। তিনি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ভার্চুয়ালি আদালতের কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে আসামিকে স্বশরীরে হাজির না করে ভার্চুয়ালি আদালতের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করায় ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন ৩০/৪০ জন উত্তেজিত জনতা। শুনানি চলাকালীন আদালত চত্বরে আসামি এবিএম ফজলে করিমের ফাঁসি চেয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা। মহানগর আদালতের প্রসিকিউশন শাখার দায়িত্বশীল একটি সুত্র দেশ রূপান্তরকে এই তথ্য জানিয়েছেন।
সুত্রটি জানায়, রাউজান থানার একটি, পাঁচলাইশ ও চান্দগাঁও থানার একটি করে দুটি মামলায় আদালতে সাতদিন করে মোট ১৪ দিনের রিমান্ড এবং পাঁচ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। আদালত পাঁচ মামলায় আসামি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ জারির পাশাপাশি তিন মামলায় ৮দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
এর মধ্যে রাউজান থানার একটি মামলায় তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-৫ ফারদিন মুস্তাকিম তাসিন। পাঁচলাইশ থানার একটি মামলায় দুই দিন এবং চান্দগাঁও থানার অন্য একটি মামলায় তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সরকার হাসান শাহরিয়ার।
আদালত সুত্র জানায়, রাউজান থানার মামলায় সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। এই মামলায় শুনানি শেষে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এছাড়া রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে রাউজান থানার চারটি মামলায় আসামি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত।
আদালত সুত্র আরও জানায়, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সরকার হাসান শাহরিয়ারের আদালতে চান্দগাঁও থানার মামলায় এবং পাঁচলাইশ থানার মামলায় সাতদিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন এবং চান্দগাঁও থানার অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। শুনানি শেষে চান্দগাঁও থানার মামলায় তিন দিন এবং পাঁচলাইশ থানার মামলায় দুই দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এছাড়া চান্দগাঁও থানার মামলায় শ্যোন এরেস্ট দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করা হয়।