ভারী বর্ষণ ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ফলে জামালপুর পৌর শহরের পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের শহর রক্ষা বাঁধ ধসের সৃষ্টি হয়েছে। বাঁধ ধসে যাওয়ায় ঝুঁকিতে পড়েছে জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, জামালপুর-শেরপুর সেতু, গুরুত্বপূর্ণ ওই সকল স্থাপনাসহ স্থানীয়দের ঘরবাড়ি।
কয়েকদিন থেকে ধস শুরু হলেও তা প্রতিরোধে পদক্ষেপ নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট দপ্তর বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। তবে ধসে যাওয়া অংশে দ্রুত মেরামত করা হবে বলে জানায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নকিবুজ্জামান খান।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, ২০১৩ সালে ব্রহ্মপুত্র সেতু থেকে পাথালিয়া পর্যন্ত প্রায় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এ বাঁধ নির্মাণে প্রায় ৫১ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় জামালপুর-শেরপুর সেতুর নিচের অংশে শহর রক্ষার প্রায় ২০ মিটার বাঁধ ধসে গেছে। এতে সৃষ্টি হয়েছে বিশাল গর্তের। সিসি ব্লকসহ বাঁধের মাটি সরে যাওয়ায় জামালপুর-শেরপুর সেতুর পিলারের একদম গোড়াতে ধস সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঝুঁকিতে পড়েছে সেতুটি। ধসে যাওয়া অংশের আশপাশে আরও ফাটল দেখা দিয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, জামালপুর-শেরপুর সেতুসহ আশপাশের স্থাপনার বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় লোকজন। তারা দ্রুত শহর রক্ষা বাঁধের ধসরোধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও অবৈধ ড্রেজার মেশিনে বালু উত্তোলনের ফলে পুরাতন ফেরিঘাট ব্রহ্মপুত্র নদের শহর রক্ষা বাঁধ ধসে যাচ্ছে। শহরের ছনকান্দা এলাকা থেকে সদর উপজেলার পিয়ারপুর পর্যন্ত প্রায় দেড় শতাধিক অবৈধ ড্রেজার মেশিনে বালু উত্তোলন করা হয়। এছাড়াও নদী খননের নামে দীর্ঘদিন থেকে সেতুর নিচ থেকে বালু তোলা হচ্ছে। এতে তলদেশ থেকে মাটি সড়ে গিয়ে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসন এসব অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আর গত কয়েকদিন থেকে শহর রক্ষা বাঁধ ভাঙলেও তা মেরামতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। তারা দ্রুত শহর রক্ষা বাঁধ রক্ষায় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্রহ্মপুত্র দক্ষিণ তীরে পূর্ব-পশ্চিম শহর রক্ষা বাঁধ। ওই বাঁধের ওপর দিয়ে উত্তর-দক্ষিণে জামালপুর-শেরপুর সেতু। সেই বাঁধে সেতুর পিলার। পিলারের গোড়াতে পশ্চিম পার্শ্বে শহর রক্ষা বাঁধ ধসে গেছে। ধসে যাওয়া অংশে স্থানীয়রা বাঁশ দিয়ে ঘিরে রেখেছে।
পুরাতন ফেরিঘাট ছনকান্দা উত্তর কুটরিয়া এলাকার শাদ বলেন, ‘শহর রক্ষা বাঁধ থেকে জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়ক খুবই সন্নিকটে। ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে যে কোনো সময় ওই মহাসড়কও ধসে যাবে। আর অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পানি নিষ্কাশনের জন্যেই শহর রক্ষা বাঁধ ধসে যাচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র সেতুর পূর্ব পাশে ছনকান্দা থেকে অবৈধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন শুরু হয়েছে। এই বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে যে কোনো সময় জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়ক নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।’
পুরাতন ফেরিঘাট ছনকান্দা এলাকার একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক মো.আনোয়ার হোসাইন বলেন, ‘বাঁধ ধসে যাওয়া অংশে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আমাদের স্কুলসহ আশপাশের ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভেঙে যাবে। ধসে যাওয়া অংশে দ্রুত মেরামতসহ অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করতে হবে। তা না হলে জামালপুর শহর ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়বে।’
অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিন্নাত শহীদ পিংকি বলেন, ‘যে জায়গায় শহর রক্ষা বাঁধ ধসে গেছে, সেখানে পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। অবৈধ বালু উত্তোলনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছি। বালু উত্তোলনকারীদের জরিমানা করা হয়েছে। অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে কেউ অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নকিবুজ্জামান খান বলেন, ‘খুব দ্রুত ভাঙন অংশটুকু মেরামত করা হবে।’
সিএমএইচে চিকিৎসা নিলেন প্রধান উপদেষ্টা
সেপটিক ট্যাংকের কুপ খননে নেমে প্রাণ গেল দুই শ্রমিকের
রাবিতে পরীক্ষা দিতে এসে আটক ২ ছাত্রলীগ নেতা
ভিসার টাকা ফেরত চাওয়ায় যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা
ধর্ষণের ঘটনায় বিক্ষোভ-গ্রেপ্তার, পাঞ্জাবে স্কুল-কলেজ বন্ধ