আকস্মিক আক্রমণের মাত্র তিন দিনের মাথায় সিরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আলেপ্পোর কিছু অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বিদ্রোহী বাহিনী। যোদ্ধারা আশপাশের এলাকায় অগ্রসর হওয়ার আগে দুটি গাড়ি বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়, তবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। বার্তা সংস্থা সিএনএন বলছে, ২০১৬ সালে সরকারী বাহিনী শহরটি পুনর্দখল করার পর এই প্রথম তারা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরটিতে পা রাখল।
এর আগে বিদ্রোহী বাহিনী চলতি সপ্তাহে অতর্কিত আক্রমণ শুরু করে, শহরের বাইরের বেশ কয়েকটি গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে এবং বছরের পর বছর ধরে স্থির থাকা সংঘাতকে পুনরুজ্জীবিত করে।
সিএনএনের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একজন বিদ্রোহী যোদ্ধা শহরের পশ্চিম দিকের নির্জন রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালানোর সময় ভিডিও ধারণ করছেন। গাড়িটি পশ্চিম আলেপ্পোর জিনে এল আবিদিন মসজিদের কাছে যাওয়ার সময় তাকে সৃষ্টিকর্তার প্রশংসা করতে শোনা যায়।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, সরকারি বাহিনী বলছে- তারা ইদলিব ও আলেপ্পোর গ্রামাঞ্চলে বিদ্রোহীদের দখলে থাকা অবস্থানগুলোর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে।
ইসলামি জঙ্গি গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) ও তাদের মিত্র দলগুলো জানিয়েছে, বুধবার অভিযান শুরুর পর তারা আলেপ্পো ও ইদলিব প্রদেশের বেশ কয়েকটি শহর ও গ্রাম দখল করে নিয়েছে।
পর্যবেক্ষক গোষ্ঠী সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস (এসওএইচআর) জানিয়েছে, শুক্রবার আলেপ্পো শহর ও আশপাশের গ্রামাঞ্চলে ২৩টি বিমান হামলা চালিয়েছে সিরীয় ও রাশিয়ার বিমান।
এসওএইচআর জানিয়েছে, লড়াইয়ে ২৫৫ জন নিহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই যোদ্ধা, যা কয়েক বছরের মধ্যে সিরিয়ায় বিদ্রোহী ও সরকারপন্থী বাহিনীর মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী। এতে বলা হয়, বুধবার থেকে বিরোধীরা ৫০টিরও বেশি শহর ও গ্রামের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে আলেপ্পো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবাসনে একটি আর্টিলারি শেল আঘাত হানলে চারজন নিহত হয়। বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মুখপাত্র হাসান আব্দুলঘানি সিরিয়ার সরকারি গণমাধ্যমের এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান সিরিয়ার বিরোধীপক্ষ এবং ২০০০ সাল থেকে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ শাসনকারী প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকারের মধ্যে কয়েক বছরের মধ্যে প্রথম বড় ধরনের উত্তেজনা।
নবগঠিত বিদ্রোহী জোট মিলিটারি অপারেশনস কমান্ড বলেছে, ‘আমাদের বাহিনী আলেপ্পো শহরে প্রবেশ শুরু করেছে।’ এর আগে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি জানিয়েছিল, সরকারি বাহিনী ও ইরানি মিলিশিয়াদের সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষের পর তারা আলেপ্পো শহরের উপকণ্ঠে সিরীয় সরকারের সামরিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
২০১১ সালে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যে লড়াই চলছে তা ২০২০ সালের মধ্যে অনেকাংশে বন্ধ হয়ে যায়। যখন সিরিয়ার প্রধান মিত্র তুরস্ক ও রাশিয়া ইদলিব পুনর্দখলে সরকারের চাপ থামাতে যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতা করে।
জাতিসংঘের মতে, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে তিন লাখেরও বেশি বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে এবং এই অঞ্চলজুড়ে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।