সশস্ত্র গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শামের যোদ্ধারা আলেপ্পো শহরে প্রবেশ করেছে, যার ফলে আট বছর পর সিরিয়ার সরকারি বাহিনী উত্তরাঞ্চলীয় শহরটি থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। এর আগে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের সমর্থনে রাশিয়ার সহযোগিতায় ২০১৬ সাল থেকে আলেপ্পোর নিয়ন্ত্রণ ছিল দেশটির সরকারি বাহিনীর হাতে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, হায়াত তাহরির আল-শাম, পূর্বে আল-নুসরা ফ্রন্ট নামে পরিচিত ছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, তুরস্ক এবং অন্যান্য কয়েকটি দেশটি এ গোষ্ঠীটিকে সন্ত্রাসী হিসেবে কালো তালিকাভুক্ত করে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের বিমান বাহিনী দেশটির সেনাবাহিনীর সমর্থনে রোববার হামলা চালিয়েছে।
ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে আঞ্চলিক রাজধানীগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
দামেস্কপন্থী সংবাদপত্র আল-ওয়াতান জানিয়েছে, সেনাবাহিনী পাল্টা হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে জানানোর পর শহরটিতে বিদ্রোহীদের সমাবেশ ও গাড়িবহর লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়।
সিরিয়ার সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, বিদ্রোহীরা বিপুল সংখ্যায় এবং বিভিন্ন দিক থেকে হামলা চালিয়েছে। বেসামরিক নাগরিক ও সৈন্যদের জীবন রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনী পুনরায় অভিযান চালাচ্ছে।
২০১১ সালে আরব বসন্তের বিক্ষোভের পর আল-আসাদের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ শুরু হয়। কিন্তু দ্রুত এ বিক্ষোভ সহিংসতায় নেমে আসে এবং পরে বিরোধী ব্যক্তিত্ব এবং বিক্ষোভকারীদের উপর ব্যাপক দমনপীড়নের পরে একটি প্রক্সি যুদ্ধের ক্ষেত্রে পরিণত হয়।
২০১১ সাল থেকে হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। বেশিরভাগ ভূমি এবং সমস্ত প্রধান শহরগুলোর নিয়ন্ত্রণ পেতে ইরান ও রাশিয়া আসাদ সরকারকে সহায়তার পরে বেশিরভাগ বড় লড়াই কয়েক বছর আগে বন্ধ হয়ে যায়।