বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বিতরণ করা ৯০ হাজার টিসিবি ফ্যামিলি কার্ডের মধ্যে ৫৮ হাজার ৪২৬টি বাতিল করা হয়েছে। মিথ্যা তথ্য, নিয়ম ভঙ্গ ও এক পরিবারে একাধিক কার্ড নেওয়ার অভিযোগে সম্প্রতি এসব কার্ড বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রেজাউল বারী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘বিভিন্ন অনিয়মের কারণে এসব কার্ড বাতিল করা হয়েছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বাতিল কার্ডগুলো প্রকৃত দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। তবে যাদের কার্ড বাতিল হয়েছে, তাদের পুনরায় কার্ড পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।’
টিসিবি বরিশালের সহকারী পরিচালক প্রকৌশলী শতদল মণ্ডল বলেন, ‘যাচাই-বাছাই শেষে ৫৮ হাজার ৪২৬টি কার্ডে অনিয়ম পাওয়া গেছে। এক পরিবারের একাধিক কার্ড এবং অসম্পূর্ণ তথ্য থাকায় এসব কার্ড বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে সিটি করপোরেশনকে ৩১ হাজার ৫৭৪টি স্মার্ট কার্ড বিতরণের জন্য দেওয়া হয়েছে। কার্ড বিতরণ শেষে আমরা পণ্য সরবরাহ করব।’
নগরীর টিসিবির একজন ডিলার মিজানুর রহমান জানান, তার অধীনে থাকা ২১০০ কার্ডধারীর মধ্যে আগামী মাস থেকে মাত্র ৬০০ জন টিসিবি পণ্য পাবেন। এর মূল কারণ বেশিরভাগ কার্ডে ভুল ও মিথ্যা তথ্য পাওয়া গেছে।
এদিকে বর্তমানে বরিশালের ১০ উপজেলায় ১ লাখ ২৯ হাজার ৯২১ জন টিসিবি কার্ডধারী সেবা পাচ্ছেন। ৯১ জন ডিলারের মাধ্যমে তাদের কাছে তিনটি পণ্য— দুই লিটার তেল, দুই কেজি ডাল এবং পাঁচ কেজি চাল সরবরাহ করা হয়। বাজারমূল্যে এসব পণ্যের দাম ৯০০ টাকার বেশি হলেও টিসিবির কার্ডধারীরা তা ৪৭০ টাকায় পাচ্ছেন।
নগরীর ২ নম্বর ওয়ার্ডের এক ভোক্তা বলেন, ‘আগে রাজনৈতিক বিবেচনায় কার্ড দেওয়া হতো। এক পরিবারের একাধিক সদস্যও পেতেন কার্ড। ফলে প্রকৃত গরিবরা টিসিবির পণ্য পেতেন না।’
উপকারভোগীদের প্রত্যাশা, ভুয়া কার্ড বাতিলের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ভোক্তারা। তবে তারা আশা করছেন, প্রকৃত দরিদ্রদের অগ্রাধিকার দিয়ে কার্ড বিতরণ করা হবে, যাতে সঠিক ব্যক্তিরা এই সেবা গ্রহণ করতে পারেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশাবাদী, সঠিক যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে টিসিবির সেবা কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর হবে।