পদ্মা নদীর প্রচণ্ড স্রোতে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার পাটুরিয়া লঞ্চঘাটের একটি জেটি সম্পূর্ণরূপে ধসে পড়েছে। মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এছাড়া ঘাটের আরেকটি জেটিও মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকায় লঞ্চ ঘাটটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী ও যানবাহন পারাপার হয়ে থাকে। জেটি ধসে পড়ায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে মারাত্মক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে যাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চে ওঠানামায় লঞ্চ ঘাট প্রায় আধা কিলোমিটার পশ্চিমে নেওয়া হয়েছে।
লঞ্চ মালিক উজ্জ্বল ফকির জানান, আজ সকালে এই ঘটনার পরেই যাত্রীদের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিআইডব্লিউটির কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যে লঞ্চ ঘাটটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে এ সমস্যা দেখা দিলেও যথাসময়ে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয় না কর্তৃপক্ষ। চলতি বছরও আগাম প্রস্তুতির অভাবে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে পাটুরিয়া ঘাট।
বিআইডব্লিউটিএ এর পান্নালাল নন্দী জানান, নদীতে প্রচণ্ড স্রোতের কারণে জেটির খুঁটির নিচের মাটি সরে যাচ্ছে। এর ফলে একটি জেটি ভেঙে গেছে, অপরটির অবস্থাও বিপজ্জনক। এখনই ব্যবস্থা না নিলে সেটিও ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএ’র আরিচা নদীবন্দরের উপ-পরিচালক মো. সেলিম শেখ দেশ রূপান্তরকে জানান, ঘটনাটি জানার পরপরই আমাদের একটি দল ঘটনাস্থলে গেছে। যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে লঞ্চঘাটকে অস্থায়ীভাবে রিজার্ভ ২ নম্বর ফেরিঘাটে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বর্ষাকাল হওয়ায় তাৎক্ষণিক মেরামত সম্ভব নয়। ধসে যাওয়া জেটিগুলো উদ্ধার করে সংরক্ষণ করা হবে এবং বর্ষা শেষে উপযোগী পরিবেশ তৈরি হলে স্থায়ীভাবে মেরামত করে পুনঃব্যবহারযোগ্য করা হবে।
সংশ্লিষ্ট মহল ও সাধারণ যাত্রীরা দ্রুত স্থায়ী ও টেকসই মেরামতকাজ শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়ানো যায় এবং এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে যাতায়াত নিরবচ্ছিন্ন রাখা সম্ভব হয়।