পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের কারণে ভেঙে গেছে পাটুরিয়া ৫ নম্বর ফেরিঘাট। এতে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) থেকে ঘাটটি বন্ধ থাকায় সচল তিনটি ফেরিঘাটের মধ্যে ৩ ও ৪ নম্বর ঘাট দিয়ে সীমিত আকারে ফেরি পারাপার চলছে।
তীব্র স্রোতের কারণে ফেরি পারাপারে সময় দ্বিগুণ লেগে যাচ্ছে। আগে যেখানে চার কিলোমিটার পথ পার হতে ২৫-৩০ মিনিট লাগত। এখন লাগছে এক ঘণ্টারও বেশি সময়। ফেরি ঘাটে ভেড়ানোও হয়ে পড়েছে কষ্টসাধ্য।
শুক্রবার (১৫ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে ৪ নম্বর পল্টনের পাশে নদীর পাড়ে ফাটল দেখা দিলে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ ঘাটটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। পরে জিও ব্যাগ ফেলে দুই ঘণ্টা পর ঘাটটি পুনরায় চালু করা হয়। বর্তমানে ৩ ও ৪ নম্বর ঘাট দিয়ে সব যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। ঘাট বন্ধ ও স্রোতের কারণে উভয় পাড়ে যানবাহনের চাপ বেড়েছে।
শুক্রবার সকালে ঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে প্রায় দেড় শতাধিক যানবাহন। পাটুরিয়া- দৌলতদিয়া নৌপথে ছোট-বড় মিলে ১০ ফেরি চলাচল করছে। স্রোত ও ৫ নং ফেরিঘাট টি বন্ধ থাকার কারণ ৫টি ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। বাকি ১০টি ফেরি দিয়ে পারাপার অব্যাহত থাকলেও উভয় ঘাটেই যানবাহনের চাপ বাড়ছে।
কুষ্টিয়াগামী ট্রাক চালক লুৎফর রহমান বলেন, সকালে ঘাটে এলেও পণ্যবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাস দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষা করছে। স্রোত আর ঘাটের অবস্থা ভালো না হওয়ায় এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ডিজিএম আবদুস সালাম দেশ রূপান্তরকে জানান, বুধবার রাত থেকে ভাঙনের কারণে ৫ নম্বর ফেরিঘাট বন্ধ রয়েছে। নদীর তীব্র স্রোতের কারণে ঘাট নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন। বর্তমানে শুধু ৩ ও ৪ নম্বর ঘাট দিয়ে সীমিত আকারে ফেরি চলাচল করছে। তবে, ৪ নং ঘাটতি ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট পদ্মার ভাঙনে পাটুরিয়া লঞ্চঘাটের একটি জেটি ধসে পড়ে। পরবর্তীতে ২ নং ফেরিঘাটে অস্থায়ীভাবে লঞ্চ চলাচল শুরু হলেও সেটিও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। বর্তমানে ১ নং ফেরিঘাট দিয়ে লঞ্চ চলাচল করছে।