দ্রুত সময়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি জানিয়েছে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। ৪টি নতুন পদ সৃষ্টির দাবিসহ চাকসু গঠনতন্ত্রের সংস্কার প্রস্তাবনা নিয়ে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) দুপুর ২টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদ সম্মেলন করে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, চবি শাখা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শাখা বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি জশদ জাকির। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শাখা বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাত, সহ-সভাপতি সাইদ্যুজ্জামান রেদোয়ান, সাংগঠনিক সম্পাদক রাম্রা সাইন মারমা, দপ্তর সম্পাদক নাঈম শাহ্ জান, রাজনৈতিক, শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক আহমেদ মুগ্ধ এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোশরেফুল হক রাকিব প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে দ্রুত সময়ে চাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি জানায় সংগঠনটি। এ সময় সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ পাঁচ দফা দাবি পেশ করে।
দাবিগুলো হলো- ভোটকেন্দ্র হবে একাডেমিক ভবন। চাকসুর সদস্যপদ ও ভোটাধিকারের ক্ষেত্রে এম. ফিল ও পিএইচডি কোর্সে অধ্যয়নরতদের অগ্রহণযোগ্য হিসাবে বিবেচনা করতে হবে। দপ্তর সম্পাদক পদটি শুধুমাত্র পুরুষ শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষণ করা নারীর প্রতি প্রশাসনের চরম অবমাননাকর অবস্থান গ্রহণ। এই পদটিও বাকি সব পদের মতই পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্যই উন্মুক্ত থাকতে হবে।
এছাড়া সাইবার বুলিং সেল গঠন এবং অনলাইনে অপপ্রচার বা সাইবার বুলিং এর সঙ্গে জড়িত পেইজ ও ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের ভোটাধিকার বাতিল করা, ছবিসহ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা।
সংবাদ সম্মেলনে পেশকৃত চাকসু সংস্কার প্রস্তাবনায় আরও চারটি নতুন পদ সৃষ্টির দাবি জানান ছাত্র মৈত্রীর নেতৃবৃন্দ।
নতুন চারটি পদ হলো- আদিবাসী অধিকার বিষয়ক সম্পাদক, পরিবহন সম্পাদক, কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া বিষয়ক সম্পাদক এবং অনুষদভিত্তিক সম্পাদক।
লিখিত বক্তব্যে শাখা বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি জশদ জাকির নতুন চার পদ সংযোজন নিয়ে বলেন, “অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় ভৌগোলিক কারণে চবিতে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেশি। পাহাড় থেকে সমতলে এমনকি এই বিশ্ববিদ্যালয়েও আদিবাসীরা বঞ্চিত ও অবহেলিত। এজন্য চাকসুতে আদিবাসী অধিকার বিষয়ক সম্পাদক পদ থাকা অত্যাবশ্যক। সম্পাদক আদিবাসী সম্প্রদায় থেকে নির্বাচিত হবেন এবং এই সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় ভূমিকা পালন করে যাবেন।”
পরিবহন সম্পাদকের বিষয়ে তিনি বলেন, “চবিতে পরিবহন সম্পাদকের দায়িত্ব ও কর্মপরিধি বিস্তৃত এবং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ক্যাম্পাসে শাটল বাস প্রদান করা ও পর্যবেক্ষণে পরিবহন অফিসের সঙ্গে কাজ করবেন। সম্পাদক সকল রুটে প্রয়োজনীয় বাস, ট্রিপ সংখ্যা বৃদ্ধি এবং শাটলের ট্রেনের নিরাপত্তা, সুবিধা-অসুবিধা ও শিডিউল নিয়ে কাজ করবেন।”
তিনি আরও বলেন, “কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া বিষয়ক সম্পাদকের কার্যপরিধি প্রসারিত করে চবির ক্যাফেটেরিয়া, চাকসু ক্যাফেটেরিয়াসহ সকল অনুষদ ও ইন্সটিটিউট-ভিত্তিক ক্যাফেটেরিয়া ও ক্যান্টিনে সুলভ মূল্যে খাদ্যের পুষ্টিমান নিশ্চিত করার দায়িত্ব অর্পণ করতে হবে। ক্যাফেটেরিয়া ও ক্যান্টিনগুলোর মেন্যু তৈরির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের মতামত অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি এই সম্পাদককে নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া, বাণিজ্যিক ফুড-কোর্ট বাতিল করে প্রশাসনিকভাবে প্রতিটি অনুষদে ক্যান্টিন স্থাপনের জন্য প্রশাসনকে বাধ্য করতে এই পদ ভূমিকা রাখবে।”
জশদ জাকির বলেন, “অনুষদ ভিত্তিক সম্পাদকের কার্যপরিধি বিস্তৃত। অনুষদের ক্লাসরুম সঙ্কট, সেশন জট, শিক্ষার্থীদের সুবিধা-অসুবিধা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন বিষয়ক কাজ করবে অনুষদ ভিত্তিক সম্পাদক।