যুক্তরাষ্ট্র ব্রাজিলের কফি ও বিভিন্ন পণ্যের ওপর পঞ্চাশ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় উত্তপ্ত হয়েছে দুই দেশের সম্পর্ক। এরই ধারাবাহিকতায় পাল্টা ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে ব্রাজিল সরকার।
শুক্রবার (উনত্রিশ আগস্ট) দেশটির সরকারি সূত্র জানায়, প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি পর্যালোচনা করার অনুমোদন দিয়েছেন।
আগামী ত্রিশ দিনের মধ্যে বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় খতিয়ে দেখবে, ওয়াশিংটনের আরোপিত শুল্ক ব্রাজিলের নতুন অর্থনৈতিক পারস্পরিকতা আইনের আওতায় পড়ে কি না।
সূত্র মতে, যদি তা প্রমাণিত হয়, তাহলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপসহ বিভিন্ন পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে কূটনৈতিক আলোচনার পথ এখনও খোলা আছে।
গত এপ্রিল পাস হওয়া ওই আইন অনুযায়ী, যেসব দেশ ব্রাজিলের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধায় একতরফাভাবে ক্ষতি করে, তাদের বিরুদ্ধে সরকার পাল্টা ব্যবস্থা নিতে পারবে। এর আওতায় বাণিজ্য সুবিধা স্থগিত, বিনিয়োগ সীমিতকরণ কিংবা মেধাস্বত্ব সংক্রান্ত চুক্তি বাতিলের মতো সিদ্ধান্তও আসতে পারে।
ছয় আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়া শুল্কের ফলে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে লুলা দা সিলভা অভিযোগ করেন, ব্রাজিলের বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র আমলে নিচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের শুল্কনীতি সাধারণত সেই দেশগুলোর বিরুদ্ধে নেওয়া হয় যাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বড় বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে। কিন্তু ব্রাজিলের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। দুই হাজার চব্বিশ সালে দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত দাঁড়ায় উনত্রিশ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
ব্রাজিল মূলত যুক্তরাষ্ট্র থেকে শিল্পযন্ত্র, গাড়ির ইঞ্জিন, মহাকাশ শিল্পের যন্ত্রাংশ ও ইস্পাতভিত্তিক নানা সামগ্রী আমদানি করে। ট্রাম্পের দাবি, সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে চলমান মামলার কারণেই এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে ব্রাজিল ইতোমধ্যে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও)-এর কাছে হস্তক্ষেপ চেয়েছে।