কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে নাশকতা পরিকল্পনার অভিযোগে সাবেক রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক মুজিবের ঘনিষ্ঠভাজন, উপজেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ও উজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নায়িমুর রহমান মজুমদার মাছুমকে কুমিল্লা শহর থেকে আটক করা হয়েছে।
এ সময় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে মো. নাজমুল হাসান রাকিব নামে উপজেলার ছাত্রলীগের এক সাবেক নেতাকেও আটক করা হয়।
সোমবার দিবাগত রাতে কুমিল্লা শহরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়। আটক নায়িমুর রহমান মজুমদার মাছুম উজিরপুর ইউনিয়নের ঘাসিগ্রামের মৃত মাস্টার মোখলেছুর রহমান (বি.কম স্যার)-এর ছেলে। তিনি চৌদ্দগ্রামের আলোচিত ৮টি হত্যা মামলার ৮৮নং আসামী। তার বিরুদ্ধে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নাশকতা পরিকল্পনা এবং দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘœ করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
বিষয়টি মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ হিলাল উদ্দিন আহমেদ নিশ্চিত করেছেন।
চৌদ্দগ্রাম থানা সূত্রে জানা গেছে, দেশের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকা থেকে চৌদ্দগ্রামের মিয়াবাজার এলাকা পর্যন্ত বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনার প্রেক্ষিতে আলোচিত ৮টি হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী নায়িমুর রহমান মজুমদার মাছুমকে কুমিল্লা শহরের একটি বাসা থেকে আটক করা হয়েছে। এ সময় নাজমুল হাসান রাকিবকে আটক করা হয়।
নায়িমুর রহমানের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা সহ একাধিক মামলা রয়েছে। সকালেই তাকে কোতোয়ালী থানায় হস্তান্তর করা হয় এবং রাকিবকে চৌদ্দগ্রাম থানায় আনা হয়। দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা স্বীকার করেছে যে, তারা শিল্পকারখানা শ্রমিকদের মধ্যে ইস্যুভিত্তিক অসন্তোষ সৃষ্টি করে তাদের মাধ্যমে মহাসড়ক অবরোধ ও বিভিন্ন নাশকতা চালানোর পরিকল্পনা করেছিল।
পুলিশ জানায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সকাল ছয়টা থেকে সাতটার মধ্যে ভয়াবহ নাশকতা চালানোর পরিকল্পনা ছিল। এতে অ্যাস্কেভেটর (ভেকু) ব্যবহার করে মহাসড়ক কেটে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস করা, শিল্পাঞ্চলে অসন্তোষ সৃষ্টি করে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্য ছিল।
চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ হিলাল উদ্দিন আহমেদ জানান, নায়িমুর রহমানকে কুমিল্লা শহর থেকে আটক করে কোতোয়ালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং রাকিবকে চৌদ্দগ্রাম থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।
নায়িমুর রহমানের বিরুদ্ধে নাশকতা পরিকল্পনার অভিযোগ, আর রাকিবের বিরুদ্ধে মহাসড়কে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ব্যানারে মিছিলে অংশ নেওয়া ও সহযোগিতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। আইনী প্রক্রিয়া শেষে দুপুরে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ অপরাধ ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বদা তৎপর রয়েছে।