আউট হয়েও কেন আউট হলেন না দাসুন শানাকা?

এশিয়া কাপের সুপার ফোরে ভারত–শ্রীলঙ্কার গুরুত্বহীন ম্যাচে হয়েছে রানের ফোয়ারা। ভারত প্রথমে ব্যাট করে তোলে ২০২ রান। জবাবে ছয়বারের এশিয়া কাপ জয়ী শ্রীলঙ্কাও সমান রান করে ম্যাচ টাই করে। ফলে ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। সেই সুপার ওভারে জমে ওঠে নাটক। আউট হয়েও আউট হননি দাসুন শানাকা!

ভারতের বাঁহাতি পেসার অর্শদীপ সিংয়ের করা সুপার ওভারের চতুর্থ বলটি ছিল অফ স্টাম্পের বাইরে দারুণ এক ইয়র্কার। শানাকার ব্যাট ফাঁকি দিয়ে বল উইকেটকিপার সঞ্জু স্যামসনের গ্লাভসে যেতেই ক্যাচ আউটের আবেদন হয়। স্যামসন ভেবেছিলেন, বল শানাকার ব্যাট ছুঁয়েছে। আবেদনের সাথে সাথে ফিল্ড আম্পায়ার বাংলাদেশের গাজী সোহেল শানাকাকে আউট ঘোষণা করেন।

এর মাঝেই ঘটে সেই অদ্ভুত ঘটনা। ভারতের উইকেটকিপারের হাতে বল থাকা অবস্থায় শানাকা দৌড়ে এক রান নেওয়ার চেষ্টা করেন। স্যামসন এবার আন্ডারআর্ম থ্রো করে স্টাম্প ভেঙে দেন। সাদা চোখে এটা পরিস্কার রান-আউট। কারণ, শানাকা ক্রিজ থেকে অনেক দূরে। সবাইকে অবাক করে দিয়ে শানাকা মাঠ না ছেড়ে রিভিউ নেন। শেষ পর্যন্ত তৃতীয় আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে তিনি বেঁচে যান। কিন্তু কীভাবে এটা সম্ভব হলো?

আইন অনুসারে, আম্পায়ার যখন কোনো ব্যাটসম্যানকে আউট ঘোষণা করেন, তখনই ওই ডেলিভারিটি ‘ডেড’ হয়ে যায়। মানে এরপর যা কিছু ঘটে, তার কোনো গুরুত্ব নেই। এর মানে শানাকা ক্যাচ আউটের বিরুদ্ধে রিভিউ নিয়েছিলেন। আল্ট্রাএজে দেখা গেছে বল তার ব্যাট স্পর্শ করেনি। তার মানে তিনি আউট নন। নিয়ম অনুযায়ী প্রথম সিদ্ধান্তই কার্যকর হয়। তাই রান আউটের ঘটনাটি বিবেচনার কোনো সুযোগই নেই।

আইসিসির আইনে ২০.১.১.৩ ধারায় বলা হয়েছে, আম্পায়ার আউট ঘোষণা করলেই সঙ্গে সঙ্গে বল ডেড হয়ে যায়। পরে রিভিউয়ে সিদ্ধান্ত বদলে গেলেও সেটা ডেড বলই থাকে। নতুন কোনো আবেদন গ্রহণযোগ্য হয় না। তাই পরিস্কার রান-আউট হওয়া সত্ত্বেও বেঁচে যান শানাকা। তবে ভাগ্য বেশিক্ষণ শানাকার সঙ্গ দেয়নি। পরের বলেই তিনি ডিপ থার্ডে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। শ্রীলঙ্কাও ম্যাচটি হেরে যায়।