যেমন কাটছে মিমের পূজা

চলছে সনাতন ধর্মের অনুসারীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। আর শারদীয় উৎসব মানেই যেন শরতের নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলার মাঝে হঠাৎ হঠাৎ কালো মেঘের হানা। কখনো কখনো বৃষ্টি-বাদলের অঝোরধারা। তবু থেমে থাকে না আয়োজন কিংবা উল্লাস-কলরব। সনাতন ধর্মের অনুসারীরা এ সময়ের জন্য বছর জুড়ে অপেক্ষায় থাকেন। মা দেবী দুর্গার আগমনে ঢাকের বোল, শাঁখের ধ্বনি, কাঁসার থাল বেজে ওঠে প্রাণ খুলে। এবারও হচ্ছে না ব্যতিক্রম। বৈরী পরিবেশের মধ্যেই কেটে গেছে পঞ্চমী, ষষ্ঠী, সপ্তমী ও অষ্টমী। আজ নবমী। 

প্রতিবারের মতো এবারের দুর্গাপূজা নিয়েও নানা পরিকল্পনা করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা সাহা মিম। পূজা মানেই তার কাছে পরিবারের সঙ্গে আনন্দমুখর সময় কাটানো। পরিকল্পনামাফিক আনন্দঘন পরিবেশেই কাটাচ্ছেন এবারের দুর্গোৎসব। এরই মধ্যে স্বামী ও পরিজনদের নিয়ে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে বেড়াচ্ছেন রকমারি সাজে। তবে দশমীর পরিকল্পনা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি এই লাক্স সুন্দরী। মিম বলেন, ‘এবারের পূজা পরিবারের সঙ্গেই উদযাপন করছি। তবে এখন পর্যন্ত ঠিক করিনি কুমিল্লায় যাব, নাকি রাজশাহী যাব। দুই জায়গাতেই অল্প অল্প করে ঘুরে আসব। এমন পরিকল্পনাও আছে।’ 

পূজার দিনের ব্যস্ততা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পূজার দিনগুলো বাসায় ভালো রান্নাবান্না হয়। এখন মামাবাড়ি গেলে বাসা থেকে খুব একটা বের হতে পারি না। দলে দলে মানুষ দেখতে আসে। রাজশাহী গেলেও একই অবস্থা। আগের মতো ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ পাই না।’ 

এ ছাড়া পূজা উপলক্ষে মাছরাঙা টিভির সেলিব্রিটি শো ‘স্টার নাইট’-এ বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন মিম। রুম্মান রশীদ খানের গ্রন্থনা ও মৌসুমী মৌয়ের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি প্রচার হবে ৩ অক্টোবর শুক্রবার রাত ৯টায়। অনুষ্ঠানে পূজা ও নিজের ব্যক্তিজীবনের অনেক অজানা অধ্যায় তুলে ধরেন তিনি। 

‘এবারের পূজায় প্রিয় মানুষটি (স্বামী সনি পোদ্দার) আমাকে শাড়ি গিফট করেছে। আর আমি সাধারণত ওকে পাঞ্জাবি গিফট করি। ঘুরেফিরে নানা কিছু দিতেই থাকি। কারণ আমার গিফট দিতে ভালো লাগে। কিছুদিন আগে ওর যখন জন্মদিন গেল, তখনো গিফট দিলাম। এখন পূজায়ও দেওয়া হলো। এবার যেহেতু খুব গরম, তাই পাঞ্জাবি দিয়েছি। পূজার এ সময়টা একেবারেই লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশন থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করি। সময় কাটাই পরিবারের সঙ্গে।’ 

ছোটবেলার স্মৃতি নিয়ে মিম বলেন, ‘শৈশবের পূজা বেশি রঙিন ছিল। ছোটবেলায় পূজার সময় রাজশাহীতে অনেক আনন্দ হতো। পূজার সময় পদ্মা নদীতে নৌকাবাইচ খুব খুব ভালো লাগত। বাসার পাশেই বিশাল মেলা বসত। এখন আর ওরকম বড় মেলা হয় না, ছোটখাটো হয়। শৈশবে ওই মেলাটা অন্যরকম ছিল। এখন ওই অনুভূতি আর নেই। এগুলো খুব মিস করি।’ 

সবশেষে ভক্তদের শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে মিম বলেন, ‘ঘুরে বেড়ালে মন ভালো থাকে, অনেক কিছু দেখা যায়। তাই ঘুরে বেড়াই। নতুন নতুন জায়গা দেখতে পাই। পূজার ছুটি ভালো কাটুক এটাই চাই। পূজার আনন্দ পরিবারের সবার সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই।’