যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে অর্থবছরের শেষ দিনেও প্রশাসনিক ব্যয় সংক্রান্ত বিল পাস না হওয়ায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সময় মধ্যরাত থেকে সরকারি তহবিল থেকে অর্থ ছাড় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জরুরি সেবা ছাড়া অন্যান্য সব সরকারি কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন ও রিপাবলিকানরা এই সরকারি অর্থ ছাড় বন্ধের দায় ডেমোক্র্যাটদের উপর চাপিয়েছে। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউজ তার ওয়েবসাইটে ‘ডেমোক্র্যাট শাটডাউন’ শব্দ ব্যবহার করে এই অবস্থার জন্য ডেমোক্র্যাটদের দায়ী করেছে।
উল্লেখ্য, কংগ্রেসের উভয় কক্ষই বর্তমানে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও তারা বিলটি পাসের জন্য প্রয়োজনীয় ভোট নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।
সিনেটে বিলটি পাসের জন্য প্রয়োজনীয় ৬০টি ভোটের বিপরীতে পড়ে মাত্র ৫৫টি ভোট। এর ফলে বিলটি পাস হতে পারেনি। রিপাবলিকান নেতা জন থুন তার হতাশা প্রকাশ করেছেন তবে শীঘ্রই একটি সমঝোতা হবে বলে আশা ব্যক্ত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে বুধবার থেকেই শুরু হতে যাচ্ছে ‘শাটডাউন’। অর্থাভাবে সরকারের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন বা কর্মচারীদের বেতন প্রদানের মতো অর্থ সরকারি ভাণ্ডারে নেই। এ কারণে জরুরি পরিষেবার বাইরের সব বিভাগ বন্ধ থাকবে। বহু সরকারি কর্মচারীর বেতনও আটকে যাবে।
তবে দেশটির সেনাবাহিনী, সীমান্তরক্ষী ও এয়ার ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রকদের কাজ চালিয়ে যেতে হবে। শাটডাউন শেষ হওয়া পর্যন্ত তারা বেতন পাবেন না। অনেক দপ্তরের কর্মীদেরও সাময়িকভাবে কাজ থেকে বিরত রাখা হবে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ঋণদান কার্যক্রমও বন্ধ থাকবে সংশ্লিষ্ট সংস্থার। ফলে মার্কিন নাগরিকরা চরম সংকটে পড়বেন। ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন ৩৫ দিন অচল ছিল। এখনও পর্যন্ত সেটাই দেশটির দীর্ঘতম শাটডাউন।
এই শাটডাউন জরুরি নয় বলে বিবেচিত সকল সরকারি কর্মীকে বেতনহীন ছুটিতে থাকতে হবে। ইতিমধ্যেই, হোয়াইট হাউজ অফিস অফ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেট (ওবিএম) বিভিন্ন সরকারি সংস্থাকে সম্ভাব্য জনবল হ্রাস পরিকল্পনার খসড়া তৈরি করতে বলেছে। দুই সপ্তাহ আগেই ওবিএম সতর্ক করে দিয়েছিল যে, যেসব কর্মসূচির বিকল্প তহবিল নেই এবং প্রেসিডেন্টের অগ্রাধিকারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, সেগুলোর কর্মীদের স্থায়ীভাবে ছাঁটাই করা হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৮০ সাল থেকে এ ধরনের সরকার বন্ধের ঘটনা ১৫ বারের মতো ঘটেছে। রোনাল্ড রিগ্যানের আমলে আটবার স্বল্পমেয়াদী শাটডাউন হয়। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন ২০১৮-১৯ সালেও এমনটি ঘটে। সবশেষ গত বছর ডিসেম্বরে বড়দিনের ছুটির মুখে একটি শাটডাউন এড়ানো সম্ভব হয়েছিল।
প্রতি বছর সরকারি সংস্থাগুলো কংগ্রেসের কাছে তাদের বার্ষিক তহবিলের অনুরোধ জমা দেয়। নতুন অর্থবছর শুরু হওয়ার আগে (১লা অক্টোবর) কংগ্রেসের বিল পাস এবং প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। তা না হলে সরকার বন্ধ হয়ে যায়। এবারও হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে স্বল্পমেয়াদী তহবিল বিল পাস হলেও সিনেটে ডেমোক্র্যাটরা সেটি আটকে দেন।
