‘রাজনৈতিক লড়াইয়ে জয়ী হলেও ক্রিকেটের যুদ্ধে হেরে গেছি’

ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠেয় আসন্ন আইসিসি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ঘিরে চলমান সংকট আরও গভীর হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান অবস্থান ও সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন বোর্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশরাফুল হক। তার মতে, ‘আমরা হয়তো রাজনৈতিক লড়াই জিতেছি, কিন্তু ক্রিকেটের যুদ্ধে ভয়াবহভাবে হেরে গেছি।’

ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘ক্রিকবাজ’কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে অভিজ্ঞ এই ক্রীড়া প্রশাসক বলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বাংলাদেশ যে অনড় অবস্থান নিয়েছে, তা আরও কৌশলীভাবে সামাল দেওয়া যেত। তার ভাষায়, এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ক্রিকেটকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিচ্ছিন্ন করে ফেলার ঝুঁকি তৈরি করেছে।

সৈয়দ আশরাফুল হক বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে বর্তমান বোর্ড এমন একটি সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতি পুরোপুরি নতি স্বীকার করেছে, যে সরকার কয়েক সপ্তাহের পর আর থাকবে না। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের ক্ষত বহুদিন থাকবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে বাংলাদেশকে এখন সম্ভাব্য ঝামেলাপূর্ণ দেশ হিসেবে দেখা হবে। যদি খেলোয়াড়রা নিরাপত্তাহীন মনে করত, তারা নিজেরাই না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিত। কিন্তু এখানে সরকার ও বোর্ড মিলে খেলোয়াড়দের বিশ্বকাপ খেলার আজীবনের স্বপ্ন কেড়ে নিয়েছে।’

ভারতে না যাওয়া সরকারি সিদ্ধান্ত হওয়ায় সেটা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতিবাচক বার্তা দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন সৈয়দ আশরাফুল হক। তার মতে, অন্য দেশগুলোতে নিরাপত্তা ইস্যু থাকলেও শেষ পর্যন্ত খেলোয়াড়দের ইচ্ছাকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়। আইসিসির সম্ভাব্য শাস্তি প্রসঙ্গে সৈয়দ আশরাফুল হক বলেন, ‘আমরা আইসিসির সঙ্গে একটি চুক্তিতে সই করেছি। সেখানে নিশ্চয়ই নিরাপত্তার বিষয়টি আইসিসির আওতায় থাকবে—এমন ধারা আছে। তাই আইসিসি চাইলে আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। এটি খুবই খারাপ পরিস্থিতি।’

বাংলাদেশের বিপুল দর্শকসংখ্যার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, বিশ্বকাপ সম্প্রচারের সময় বাংলাদেশের দর্শকসংখ্যা তৃতীয় বা চতুর্থ বৃহত্তম। সে কারণে সম্প্রচার স্বত্ব থেকে আয় কমলে বিসিবির কাছে ক্ষতিপূরণও চাইতে পারে আইসিসি। আলোচনার টেবিলে বিসিবির অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই সাবেক কর্মকর্তা, ‘আমরা শুরুতেই বলে দিয়েছি—শ্রীলঙ্কায় খেলতে না পারলে আমরা খেলব না। এভাবে অনড় অবস্থান নেওয়া উচিত হয়নি। আগে আলোচনা করা দরকার ছিল। আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান সম্ভব। আমরা উল্টো ভারতের কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক শক্তির ফাঁদে পা দিয়েছি। এই সরকার তো অল্প সময়ের জন্য। এই সময়েই বোর্ডের উচিত ছিল দৃঢ়ভাবে কথা বলা।’

ভবিষ্যতে এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন সৈয়দ আশরাফুল হক, ‘আমাদের এখন বড় ধরনের কূটনৈতিক ও জনসংযোগ কার্যক্রম চালাতে হবে। কারণ আইসিসির বৈঠকে আমরা মাত্র একটি ভোট পেয়েছি—এটাই আমাদের অবস্থান দেখায়। নতুন রাজনৈতিক সরকার এসে যদি বিষয়টি সামাল দিতে না পারে, তাহলে এটি বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য মৃত্যুঘণ্টা হয়ে উঠবে।’