স্মৃতি মান্ধানার বিয়ে বিতর্ক: আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে ধরা পড়েন পলাশ!

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:০৪ পিএম

ভারতের বিশ্বকাপজয়ী নারী ক্রিকেট দলের তারকা ব্যাটার স্মৃতি মান্ধানা ও সংগীতশিল্পী-সুরকার পালাশ মুচ্ছলের বিয়ে বাতিলের ঘটনা ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিনেতা ও প্রযোজক বিদ্ন্যান মানে পালাশ মুচ্ছলের বিরুদ্ধে পরকীয়া ও আর্থিক প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। এ ঘটনায় মহারাষ্ট্রের সাংলিতে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্মৃতি মান্ধানা ও পালাশ মুচ্ছলের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর। তবে দুই পরিবারের স্বাস্থ্যগত জরুরি পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে প্রথমে বিয়ের অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়। পরে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়। তখন ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল যে, পলাশ একাধিক নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় যুক্ত ছিলেন।

পলাশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা বিদ্ন্যান মানে হলেন স্মৃতি মান্ধানার শৈশবের বন্ধু। 'হিন্দুস্তান টাইমস'কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৩৪ বছর বয়সী বিদ্ন্যান মানে দাবি করেন, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই একটি ঘটনায় স্মৃতি ও পালাশের সম্পর্ক ভেঙে যায়। মানের অভিযোগ, ‘২৩ নভেম্বর বিয়ের অনুষ্ঠানের সময়ই তিনি অন্য এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়েন। পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ। এরপর পুরো বিষয়টি এলোমেলো হয়ে যায়।’

এছাড়া পালাশ মুচ্ছল ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে আর্থিক চাপ ও প্রতারণার অভিযোগও করেছেন বিদ্ন্যান মানে। মানের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি মুক্তি না পাওয়া চলচ্চিত্র প্রকল্পে তিনি ইতোমধ্যে ৪০ লাখ রুপির বেশি বিনিয়োগ করেছেন। তার ভাষায়, ‘গত মাসে পালাশের মা অমিতা মুচ্ছলের সঙ্গে দেখা হলে তিনি বলেন, সিনেমাটি মুক্তির জন্য বাজেট এখন ১ কোটি ৫০ লাখ রুপি। আমাকে আরও ১০ লাখ রুপি বিনিয়োগ করতে বলা হয়, নইলে আগের টাকা ফেরত দেওয়া হবে না। আমাকে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছিল, তাই বাধ্য হয়ে আমি অভিযোগ দায়ের করেছি।’

তিনি আরও বলেন, বিয়ে বাতিলের পর মুচ্ছল পরিবারের সঙ্গে তার সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ওই চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত অন্য শিল্পীরাও তাদের পারিশ্রমিক পাননি। মানের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘চলচ্চিত্র জগতে অনেক কিছু শুনেছি, কিন্তু এটিকে আমি সরাসরি চুরি বলেই মনে করি।’ তিনি দাবি করেন, নিজের অভিযোগের পক্ষে চ্যাট ও ফোনালাপসহ প্রয়োজনীয় প্রমাণ তার কাছে রয়েছে, যা পুলিশ ও গণমাধ্যমকে দেখাতে তিনি প্রস্তুত।

অন্যদিকে, পালাশ মুচ্ছল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি লেখেন, ‘বিদ্ন্যান মানের আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমার সুনাম ক্ষুণ্ন করতেই এসব করা হচ্ছে। আমার আইনজীবী শ্রেয়াংশ মিঠারে বিষয়টি আইনি পথে মোকাবিলা করছেন এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়াতেই এর নিষ্পত্তি হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত