অপরাধ দমনের আড়ালে আরব সমাজকে পঙ্গু করার ছক?

সুপারমার্কেটের বাইরে এক মাকে গুলি করে হত্যা; মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় এক ব্যক্তিকে প্রাণঘাতী হামলা; এমনকি রোগী দেখার সময় এক চিকিৎসককে গুলি—এই মর্মান্তিক ঘটনাগুলো এখন আর কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এগুলো ইসরায়েলজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এক সহিংস অপরাধের মহামারির ভয়াবহ রূপ।

এই হত্যাকাণ্ডের শিকার সকলেই ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিক। তাদের সম্প্রদায়ে হত্যাকাণ্ডের হার এতটাই নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে যে, চলতি বছর গড়ে প্রতিদিন একজন করে মানুষ নিহত হচ্ছেন। ফিলিস্তিনি নাগরিকরা দেশটির মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ। তাদের অনেকেরই অভিযোগ, ইসরায়েলি সরকার কেবল এই অপরাধের ঢেউ রুখতে ব্যর্থই হয়নি, বরং তাদের নিষ্ক্রিয়তা আরব সংগঠিত অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর দ্বারা সংঘটিত সহিংসতার চক্রকে আরও উসকে দিয়েছে।

তথ্য-উপাত্ত এই চরম বৈষম্যের চিত্রই তুলে ধরছে। ইসরায়েলি পার্লামেন্ট (নেসেট) এবং আরব সমাজের নিরাপত্তা বিষয়ক কেন্দ্র ‘এিলাফ’-এর তথ্য অনুযায়ী, ইহুদি ইসরায়েলিদের ক্ষেত্রে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের হার ৬৫ শতাংশ হলেও আরব সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে ইসরায়েল পুলিশ মাত্র ১৫ শতাংশ ঘটনার সমাধান করতে পেরেছে।

ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকরা মূলত তাদেরই বংশধর, যারা ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার সময় নিজ ঘরবাড়ি থেকে বিতাড়িত হননি বা পালিয়ে যেতে বাধ্য হননি। তাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হলেও ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত তারা সামরিক শাসনের অধীনে ছিলেন। অনেকের মতে, আজও তারা ইসরায়েলি সমাজে প্রতিনিয়ত বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

ফিলিস্তিনি নাগরিকদের অধিকার ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তিতে কাজ করা সংগঠন আব্রাহাম ইনিশিয়েটিভস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরটি ছিল এই সম্প্রদায়ের জন্য রেকর্ডে থাকা সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী বছর। সে বছর ২৫২ জন নিহত হন, যাদের বিশাল একটি অংশ বন্দুকযুদ্ধের শিকার। ২০২৬ সালও ইতোমধ্যে একটি রক্তক্ষয়ী শুরুর মধ্য দিয়ে যাচ্ছে; বছরের এই অল্প সময়েই নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৬ জনে।

এটি এমন এক প্রাণঘাতী বাস্তবতা যা বিপদের ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে দেশটির হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নাগরিক রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন। তাদের সাথে কিছু ইহুদি ইসরায়েলিও যোগ দিয়ে সরকারের পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। উত্তর ইসরায়েলের সংখ্যাগরিষ্ঠ ফিলিস্তিনি শহর সাখনিনে গত জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত এক প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষ আরবিতে স্লোগান দেন— ‘হত্যাকাণ্ড নয়, মৃত্যু নয়, আমরা ন্যায়বিচারের সাথে বাঁচতে চাই।’

বিক্ষোভকারীরা সিএনএনকে জানিয়েছেন, এটি ছিল আরব সম্প্রদায়ের দেখা বিগত কয়েক বছরের মধ্যে বৃহত্তম বিক্ষোভ, যার সমাপ্তি ঘটেছিল দোকান মালিকদের কয়েক দিনের সাধারণ ধর্মঘটের মাধ্যমে। সেখান থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন দেশব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচিতে রূপ নিয়েছে, যেখানে প্রায় প্রতিদিন ইসরায়েলজুড়ে ধর্মঘট ও বিক্ষোভ চলছে। সারা দেশের রাস্তাঘাট কালো পতাকায় ছেয়ে গেছে এবং নাগরিকরা একটি ‘জাতীয় বিঘ্ন দিবস’ ঘোষণা করায় প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে ফোয়ারার পানি লাল রঙে রঞ্জিত করা হয়েছে।

সাখনিন ধর্মঘটের এক সপ্তাহ পর ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ শহরটিতে এক বিরল সফরে যান। সেখানে তিনি স্থানীয় আরব কর্তৃপক্ষ এবং বিক্ষোভের আয়োজকদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তিনি বলেন, আরব সম্প্রদায়ে অপরাধ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে লড়াই ‘জাতীয় অগ্রাধিকারের শীর্ষে থাকতে হবে এবং অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে এটি মোকাবিলা করতে হবে।’ তিনি একে একটি ‘নৈতিক বাধ্যবাধকতা’ হিসেবে অভিহিত করেন।

গত বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের পুলিশ কমিশনার ড্যানিয়েল লেভি আরব সম্প্রদায়ের অপরাধকে একটি ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’ এবং ‘একটি অসহনীয় পরিস্থিতি যা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে’ বলে ঘোষণা করেছেন। তিনি এই সমস্যা মোকাবিলায় পুলিশকে সহায়তা করার জন্য অন্যান্য সরকারি সংস্থাকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

ইসরায়েলের অনেক ফিলিস্তিনি নাগরিকের কাছে এই ঘোষণাগুলো অন্তঃসারশূন্য মনে হয়। কাসেম আওয়াদ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তার ছেলের খুনির বিচারের অপেক্ষায় আছেন। তার ছেলে আবদুল্লাহ ছিলেন পশ্চিম গ্যালিলির মাজরা’আ গ্রামের একজন চিকিৎসক। গত ফেব্রুয়ারিতে একটি ক্লিনিকে এক মা ও তার দুই শিশুকে চিকিৎসা দেওয়ার সময় এক মুখোশধারী বন্দুকধারী সেখানে ঢুকে তাকে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করে। তখন তার বয়স ছিল ৩০ বছর।

সেদিন আবদুল্লাহ অন্য একজন চিকিৎসকের পরিবর্তে সেখানে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার বাবার বিশ্বাস, তাকে ভুল করে অন্য কেউ ভেবে হত্যা করা হয়েছে। আওয়াদ বলেন, আপনি যদি ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি আরব সম্প্রদায়ের দিকে তাকান, তবে দেখবেন কত মানুষ প্রতিদিন কোনো কারণ ছাড়াই নিহত হচ্ছেন। এই মানুষদের অপরাধ জগতের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই। তারা এই পরিস্থিতির শিকার এবং আমার ছেলেও তাদের একজন।

ছেলের মৃত্যুর পর পুলিশ তাদের বাড়িতে এসে তদন্ত ও খুনি শনাক্ত করার আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা হয়নি এবং পরিবারটি জানায় যে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছ থেকে তারা আর কিছুই শোনেনি। আওয়াদ বিশ্বাস করেন, তার ছেলে যদি ইহুদি হতো তবে খুনিকে এক ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা হতো।

তার সম্প্রদায়ের অনেকের মতো আওয়াদও বিশ্বাস করেন যে, ইসরায়েলি সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধগুলোকে অবহেলা করছে। তিনি বলেন, এটি বিভাজন ও শাসনের একটি নীতির অংশ। তাদের ধারণা হলো— ওদের একে অপরকে মারতে দাও, আর আমরা শান্তিতে বসে থাকি।

আওয়াদ আরও উল্লেখ করেন যে, ইসরায়েলিদের বিরুদ্ধে অপরাধে লিপ্ত ফিলিস্তিনি অপরাধীদের কত দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হয়। তিনি প্রশ্ন করেন, খুনিদের ধরার জন্য তাদের কাছে প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম এবং কৌশল সবই আছে। কিন্তু যখন এটি আরব জনগোষ্ঠীর ওপর প্রভাব ফেলে, তখন কি তাদের সেই সরঞ্জাম বা কৌশল আর থাকে না?

এিলাফ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকরা আইনের ‘বেছে বেছে প্রয়োগের’ সম্মুখীন হচ্ছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘একদিকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি কঠোর দৃষ্টিভঙ্গি এবং অন্যদিকে অপরাধী ও অপরাধের প্রতি নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করা হচ্ছে।’

সিএনএন-এর এক প্রশ্নের জবাবে ইসরায়েল পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ডা. আওয়াদের হত্যাকাণ্ডের পর একটি ‘পুঙ্খানুপুঙ্খ ও জটিল তদন্ত শুরু হয়েছে,’ যেখানে কর্তৃপক্ষ সন্দেহভাজনদের অবস্থান শনাক্ত করতে এবং সত্য উদঘাটনের উদ্দেশ্যে ‘কয়েক ডজন সংশ্লিষ্ট পক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।’

আব্রাহাম ইনিশিয়েটিভস-এর সংগৃহীত তথ্য বলছে, ২০২৩ সালে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। সেটি ছিল কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গিভীরের দায়িত্বে থাকার প্রথম পূর্ণ বছর।

সন্ত্রাসবাদে সমর্থন এবং আরব-বিরোধী বর্ণবাদ উসকে দেওয়ার দায়ে দণ্ডিত বেন গিভীর নিজের দায় অস্বীকার করেছেন। এর পরিবর্তে তিনি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে চোখ বন্ধ করে রাখার জন্য স্থানীয় আরব নেতাদের দায়ী করেছেন। গত মাসে তিনি বলেছিলেন যে, তিনি ‘অপরাধ এবং অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিশাল সম্পদ বরাদ্দ করেছেন।’

সমালোচকরা বলছেন, তার কথা ও কাজের মধ্যে বিস্তর ফারাক। দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই বেন গিভীর পূর্ববর্তী সরকারের চালু করা ‘স্টপ দ্য ব্লিডিং’ (রক্তপাত বন্ধ করো) নামক আরব-বিরোধী অপরাধ দমন প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ তহবিল বন্ধ করে দেন। পরের বছর তিনি আরব সমাজের অপরাধ দমনের দায়িত্বে থাকা উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করে তার স্থলে অপেক্ষাকৃত নিম্নপদস্থ একজনকে নিয়োগ দেন।

গত রবিবার বেন গিভীর তার কাজের পক্ষে সাফাই গেয়ে ‘কান রেশেত বেত’ রেডিওতে বলেন, তার মেয়াদে ‘বিরাট সাফল্য’ এসেছে। তিনি বলেন, আমি শুধু আরবদের জন্য কাজ করি না। আমি সবার জন্য কাজ করি। ইহুদিদের মধ্যে হত্যাকাণ্ড ২০ শতাংশ কম হয়েছে... ইহুদি নারীদের হত্যা ৬০ শতাংশ কমেছে এবং গাড়ি চুরি ২০ শতাংশ কমেছে—বিষয়টি স্পষ্ট করা যাক। বেন গিভীর আরব সেক্টরে অপরাধকে একটি ‘গুরুতর ঘটনা’ হিসেবে বর্ণনা করে তা দমনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তবে তার মেয়াদে রেকর্ড পরিমাণ হত্যাকাণ্ড সত্ত্বেও তিনি এর জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল এবং কর্তৃপক্ষের ৪০ বছরের অবহেলাকে দায়ী করেন।

উদ্বেগ শুধু হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা নিয়ে নয়, বরং যেভাবে তা প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত হচ্ছে তা নিয়েও। এিলাফ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর চারটির মধ্যে তিনটি হত্যাকাণ্ডই পাবলিক প্লেসে ঘটেছে, যা উন্মুক্ত অপরাধের এক বিপজ্জনক স্বাভাবিকীকরণ নির্দেশ করে। অপরাধীরা কোনো তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ বা কার্যকর প্রতিরোধের ভয় পাচ্ছে না।

এিলাফ-এর প্রধান রাউইয়া হান্দাকলু বলেন, দুর্বল শাসন ব্যবস্থা, পুলিশের সীমিত উপস্থিতি এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থার অভাবের সুযোগ নিয়ে আরব শহরগুলোতে সংগঠিত অপরাধ জাঁকিয়ে বসেছে। রাষ্ট্রের ফেলে রাখা শূন্যস্থান পূরণ করে তারা ধীরে ধীরে নিজেদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব বিস্তার করছে।

তার মতে, এই সহিংসতা ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের বর্জন ও প্রান্তিককরণের প্রতিফলন। রাষ্ট্র প্রায়ই এই অপরাধ ও সহিংসতাকে কেবল আরব সমাজের অভ্যন্তরীণ সমস্যা হিসেবে দেখায়, যা চাপিয়ে দেওয়া এক বাস্তবতার জন্য সমাজকেই দায়ী করার নামান্তর।

পার্লামেন্টে এই অপরাধের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরা নেসেটের ফিলিস্তিনি সদস্য আইদা তৌমা-সুলেমান বিশ্বাস করেন, আরব সম্প্রদায়ের অপরাধ নির্মূলের প্রথম পদক্ষেপ হলো এই ডানপন্থী সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা। সাখনিন বিক্ষোভে তিনি সিএনএনকে বলেন, যখন সরকার ব্যবস্থা নেয় না, অপরাধীদের দায়ী করে না এবং বিচার করে না, তখন এটি তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করার মতোই। আমরা চাই তারা তাদের দায়িত্ব পালন করুক এবং আমাদের তরুণদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুক যাতে তারা নির্ভয়ে বেড়ে উঠতে পারে।

গত ডিসেম্বরে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ঘোষণা করা হয় যে, আরবদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বরাদ্দকৃত তহবিল থেকে ৭০ মিলিয়ন ডলার সরিয়ে পুলিশকে দেওয়া হবে যাতে তারা আরব সম্প্রদায়ের গুরুতর জাতীয়তাবাদী অপরাধ মোকাবিলা করতে পারে।

ফিলিস্তিনি নাগরিকদের সমানাধিকারের জন্য কাজ করা গ্রুপ মোসাওয়া সেন্টার একে একটি বিপজ্জনক রাজনৈতিক পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছে এবং জানিয়েছে এটি অপরাধ দমনে কোনো ভূমিকা রাখবে না। এক বিবৃতিতে তারা বলে, মন্ত্রণালয় যখন তাদের হাতে থাকা বর্তমান বাজেট ব্যবহার করতে ব্যর্থ হচ্ছে, তখন তারা শিক্ষা ও বাসস্থানের মতো অন্য খাতের বাজেট কেটে নিজেদের ভাণ্ডারে নেওয়ার চেষ্টা করছে। একে আরব সমাজকে আরও দরিদ্র করা এবং অপরাধের সংকটে ডুবিয়ে দেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত নীতি হিসেবেই দেখা যায়।

মাজরা’আ গ্রামে নিজ বাড়িতে বসে আওয়াদ এখনো তার ছেলের বিচারের অপেক্ষায় দিন গুনছেন। মৃত ছেলের আলোকচিত্রগুলোই এখন তার একমাত্র সান্ত্বনা। তার ছেলের হত্যার বিচার পাবেন কিনা—এমন প্রশ্নে দীর্ঘশ্বাস ফেলে তিনি আঙুল তুলে ছাদের দিকে নির্দেশ করেন। তিনি বলেন, ন্যায়বিচার কেবল ওখানেই আছে, আল্লাহর কাছে।

সূত্র: সিএনএন