মহালয়ার দিনে (গত ১৪ অক্টোবর) দেবী দুর্গা এসেছিলেন মর্ত্য।ে ওইদিন দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। গত শনিবার মহাসপ্তমী, রবিবার মহাষ্টমী ও সোমবার মহানবমী শেষে আজ মঙ্গলবার বিজয়া দশমী উদযাপিত হচ্ছে। পাঁচ দিন ভক্তের আকুতি, আরাধনা, পূজা ও পুষ্পাঞ্জলি নিয়ে দেবী মর্ত্য থেকে আজ ফিরে যাচ্ছেন কৈলাসে। চারদিকে বেজে উঠেছে দেবীকে বিদায়ের করুণ সুর। আজ সকালে সারা দেশের মন্ডপগুলোকে দর্পণ বিসর্জন ও বিকেলে প্রতিমা নিরঞ্জনের মধ্য দিয়ে সনাতন সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গোৎসব শেষ হচ্ছে। এক বছরের জন্য দেবী ফিরে যাচ্ছেন কৈলাসে। সামনে বছর ভক্তকে দর্শন দিতে আবারও তিনি মর্ত্যে আসবেন। শাস্ত্রমতে, এবার দেবী দুর্গা কৈলাস থেকে তার সন্তান গণেশ, কার্তিক, লক্ষ্মী আর সরস্বতীকে নিয়ে ভক্তের পূজা নিতে মর্ত্যে এসেছিলেন ঘোটকে (ঘোড়ায়) চড়ে। তিনি ফিরেও যাচ্ছেন একই বাহনে।
গতকাল সোমবার দেশ জুড়ে মহাসমারোহে মহানবমী উদযাপিত হয়েছে। এদিন সকালে দুর্গা দেবীর মহানবমীবিহিত পূজার্চনা, ব্রতোপবাস ও পুষ্পাঞ্জলি অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে হয় সন্ধিপূজা। মন্ডপগুলোতে গতকালও দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। আজ বিজয়া দশমীতে রাজধানীতে বিজয়ার শোভাযাত্রা হবে। বিকেল ৩টার দিকে শোভাযাত্রা রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বুড়িগঙ্গায় প্রতিমা নিরঞ্জন অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকার গোপীবাগের শ্রী রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠের অধ্যক্ষ ও সম্পাদক শ্রী মৎ স্বামী পূর্ণাত্মানন্দজী মহারাজ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দেবী এবার ঘোটকে চড়ে মর্ত্যে এসেছেন ও কৈলাসে ফিরে যাবেন। এর মানে হচ্ছে ছত্রভঙ্গ সুরঙ্গমে। অর্থাৎ একধরনের অশুভ কিছু হবে। এই যেমন রোগ, সামাজিক অস্থিরতা ও হানাহানির মতো আশঙ্কা আছে। এখন এই অশুভ কিছুর বিরুদ্ধে একমাত্র মায়ের কাছে প্রার্থনা করা।’
