আমাদের দেশে কোরবানির ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়ি যাওয়াটা অনেকটা উৎসবের মতো। প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের আনন্দে বাড়ির পথে ভ্রমণও হয়ে ওঠে আনন্দময়। কিন্তু মুহূর্তেই সে আনন্দ মাটি করে দিতে পারে বমি কিংবা বমির প্রবণতা। বাস বা গাড়িতে চড়লে অনেকেরই বমি কিংবা বমির ভাব হয়। কখনো কখনো বমির সঙ্গে মাথা ঘোরে বা মাথাব্যথা করে। এর জন্য অনেকেই গাড়িতে বা বাসে চড়তে ভয় পান।
বমির কারণ : গতি জড়তার ফলে যে মস্তিষ্কে সমন্বয়হীনতা হয় তার কারণে এমন হয়। এ ছাড়া আরও অনেক কারণে যাত্রাপথে বমি হতে পারে। যেমনবাস, গাড়ি বা ট্রেনের ঝাঁকুনি এবং লঞ্চের দুলুনি বিষাক্ত বা অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ বাজে গন্ধ বা বিস্বাদের খাবার গ্রহণ গ্যাস্ট্রিক আলসার বা এই জাতীয় শারীরিক অসুস্থতা অসুস্থতা নিয়ে ভ্রমণ করা শারীরিক পরিশ্রম
প্রতিকার : যাত্রা শুরু করার আগে ঝাল-মসলাযুক্ত খাবার, কোমল পানীয় বা চিপস ইত্যাদি খাবেন না। বমির সমস্যা থাকলে হালকা কিছু খাবার খেয়ে বাহনে উঠুন।
অতিরিক্ত ঘ্রাণ বা সুগন্ধযুক্ত খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন। ভ্রমণের সময় সঙ্গে বিশুদ্ধ খাবার পানি রাখুন এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন। দারুচিনি, লবঙ্গ ও টক জাতীয় খাবার বমিভাব দূর করে। যাত্রাপথে এগুলো সঙ্গে রাখতে পারেন। ট্রেন, বাস বা গাড়ি যেদিক মুখ করে সামনে এগোচ্ছে তার উল্টো দিক ফিরে কখনোই বসবেন না। এতে বমিভাব আরও প্রবল হয়। বাসে কিংবা গাড়িতে পেছনের দিকের সিটে বসার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। পেছনের দিকে সিটে ঝাঁকুনি বেশি লাগে, যা অনেক সময় বমির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ভ্রমণের সময় ধূমপান করবেন না। পান-সুপারি এবং অন্যান্য নেশা জাতীয় দ্রব্যও এড়িয়ে চলুন। চলন্ত অবস্থায় বইপড়া বা নেট ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। ভ্রমণের সময় মনকে শান্ত ও প্রফুল্ল রাখার চেষ্টা করুন। বমি হতে পারে এই কথা ভুলে থাকুন। মনকে প্রফুল্ল রাখতে গান শুনতে পারেন। যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়া হচ্ছে বুদ্ধিমানের কাজ। সমস্যা খুব বেশি হলে যাত্রা শুরুর আগে বমি নিরোধক ট্যাবলেট খেয়ে নিতে পারেন। তবে যেকোনো ওষুধ সেবনের পূর্বে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।