দীর্ঘদিন শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলার পর অবসরে গিয়ে নিজের সঞ্চিত অর্থের জন্য অপেক্ষায় থাকেন অনেক শিক্ষক। কিন্তু সময়মতো সেই অবসর ও কল্যাণ তহবিলের টাকা না পাওয়ায় চিকিৎসা ও দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাদের। এবার সেই দীর্ঘ অপেক্ষা কিছুটা হলেও শেষ হওয়ার আশা দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে অবসরের অপেক্ষায় থাকা প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৬৪৪ জন শিক্ষকের পাওনা পরিশোধে প্রায় ৯ হাজার ৭৫৭ কোটি টাকা প্রয়োজন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, অবসর সুবিধা বোর্ডে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত জমা হওয়া ৫৯ হাজার ৮২০টি আবেদনের বিপরীতে প্রায় ৭ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা দরকার। অন্যদিকে কল্যাণ ট্রাস্টে মার্চ পর্যন্ত ৪৫ হাজার ৮২৪টি আবেদনের জন্য প্রয়োজন প্রায় ২ হাজার ৫৮১ কোটি টাকা।
এ পরিস্থিতি সামাল দিতে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ হিসেবে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শুরুতে অর্থ বিভাগ মাত্র ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা করলেও পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় আসে।
সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাজেট পর্যালোচনা সভায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেখানে জানানো হয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে এবং বিশেষ বরাদ্দ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নীতিনির্ধারকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সংকটের মূল কারণ হলো আয়ের তুলনায় ব্যয়ের বড় পার্থক্য। শিক্ষকরা তাদের মূল বেতনের ১০ শতাংশ এই তহবিলে জমা দেন—যার মধ্যে ৬ শতাংশ অবসর সুবিধা এবং ৪ শতাংশ কল্যাণ তহবিলে যায়।
এছাড়া শিক্ষার্থীদের ফি থেকেও বছরে কিছু অর্থ যুক্ত হয়। সব মিলিয়ে প্রতি মাসে প্রায় ৭৬ কোটি টাকা জমা হলেও দাবি নিষ্পত্তিতে খরচ হয় গড়ে ১২৫ কোটি টাকা, ফলে ঘাটতি ক্রমেই বাড়ছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকেও তহবিলের অর্থ আটকে রয়েছে বলে জানা গেছে। শুধু ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকেই কল্যাণ ট্রাস্টের প্রায় ২২৯ কোটি টাকা আটকে আছে।
এই সংকট নিরসনে এককালীন বড় বরাদ্দের পাশাপাশি নিয়মিত বাজেট সহায়তার বিষয়েও জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ বিভাগে পাঠানো প্রস্তাবে অবসর সুবিধা বোর্ডের জন্য ২ হাজার কোটি টাকা এবং কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের সুপারিশ করা হয়েছে।
কর্মকর্তারা বলছেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে অর্থের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন—এ কারণেই দ্রুত সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কমলো এলপি গ্যাসের দাম, সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর