আগের ম্যাচেই তাঁর দুর্দান্ত গোলে শক্তিশালী ব্রাজিলকে রুখে দিয়েছিল মরক্কো। সেই ফর্ম ধরে রেখে এবার বিশ্বকাপের দ্রুততম গোলের রেকর্ড গড়লেন ইসমায়েল সাইবারি। ম্যাচ শুরুর পর ঘড়ির কাঁটা তখন মাত্র ৭১ সেকেন্ড ছুঁয়েছে। স্কটিশ ডিফেন্ডার গ্র্যান্ট হ্যানলির অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে ব্রাহিম দিয়াজের নিখুঁত থ্রু পাস ধরে বুলেট গতিতে বল জালে জড়ান এই তরুণ ফরোয়ার্ড। সাইবারির এই ঐতিহাসিক গোলের ওপর ভর করেই স্কটল্যান্ডকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে মরক্কো।
স্কোরলাইন দেখে ম্যাচের তীব্রতা বোঝা না গেলেও, পুরো ম্যাচজুড়ে স্কটিশদের ওপর একক আধিপত্য বজায় রেখে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষস্থান নিজেদের দখলে নিয়েছে গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্টরা। এই জয়ে ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে নকআউট পর্বের দৌড়ে বেশ এগিয়ে গেল মরক্কো। কিছুক্ষণের জন্য গ্রুপের শীর্ষে উঠলেও দিনের আগের ম্যাচের হাইতির বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানের জয়ে শীর্ষে উঠেছে ব্রাজিল। তবে সমান পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে মরক্কো।
ম্যাচের একমাত্র গোলদাতা সাইবারি এই গোলের মাধ্যমে একটি অনন্য কীর্তিও গড়েছেন। মিশরের মোহামেদ সালাহ’র পর দ্বিতীয় আফ্রিকান ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের নিজের প্রথম দুই ম্যাচেই গোল করার রেকর্ড গড়লেন বায়ার্ন মিউনিখে যোগদানের গুঞ্জন থাকা এই তারকা।
গোল করার পাশাপাশি পুরো ম্যাচজুড়ে স্কটিশদের ওপর একক আধিপত্য বজায় রাখে মরক্কো। পুরো ম্যাচে তারা রেকর্ড ৬০১টি পাস খেলেছে, যা ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে কোনো আফ্রিকান দলের সর্বোচ্চ পাসের রেকর্ড।
ম্যাচ শেষে মরক্কোর কোচ মোহামেদ ওয়াহবি দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, “আমরা দ্বিতীয় গোলটি করে আরও স্বস্তিতে থাকতে চেয়েছিলাম। তবে আমরা রক্ষণ ও প্রেসিং ধরে রেখে দারুণ একটি ম্যাচ খেলেছি। ব্যবধান ২-০ না হওয়াটা স্কটল্যান্ডের রক্ষণভাগের কৃতিত্ব। পথ এখনও দীর্ঘ, তবে আজকের জয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।”
দ্বিতীয়ার্ধেও মরক্কোর আক্রমণভাগ একের পর এক সুযোগ তৈরি করে, যার মধ্যে সাইবারির একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ম্যাচের শেষ দিকে ঘুরে দাঁড়ানোর মরিয়া চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় স্কটল্যান্ড।
গ্রুপপর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবার লক্ষ্যে আগামী ২৫জুন হাইতির বিপক্ষে খেলবে মরক্কো। একইদিনে স্কটল্যান্ড নামবে ব্রাজিলের বিপক্ষে।