বিশ্বকাপের মঞ্চে স্বাগতম লামিন ইয়ামাল! প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের কাছে গোলশূন্য ড্র করে হোঁচট খাওয়া স্পেনকে দুর্দান্তভাবে কক্ষপথে ফিরিয়ে আনলেন এই বিস্ময় বালক। বিশ্বকাপে প্রথমবার শুরুর একাদশে খেলতে নামার মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় গোল করে দলকে উল্লাসে ভাসালেন ১৮ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। ম্যাচের মাত্র ১০ মিনিটে গোল করে তিনি মেসিকে ছাড়িয়ে গেছেন। ইয়ামালের রেকর্ডের দিনে সৌদি আরবকে ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইউরোপের চ্যাম্পিয়নরা।
বিশ্বকাপে লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হালান্ড এবং হ্যারি কেনরা ইতিমধ্যেই গোল উৎসব শুরু করে দিয়েছেন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন বার্সেলোনার উইঙ্গার লামিন ইয়ামাল। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে মৌসুমের শেষ দিকে মাঠের বাইরে থাকা এই তারকাকে নিয়ে প্রথম ম্যাচের আগে ফিটনেস শঙ্কা ছিল, যার ফলে কেপ ভার্দের বিপক্ষে তাকে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নামানো হয়েছিল।
তবে রবিবার আটলান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই মাঠে নেমে সৌদি রক্ষণভাগকে তছনছ করে দেন ইয়ামাল। ম্যাচের ১০ মিনিটে মিকেল ওয়ারজাবালের নিচু ক্রস থেকে নিখুঁত ছোঁয়ায় দূরবর্তী পোস্ট দিয়ে বল জালে জড়ান তিনি। গোল উদযাপনে হাঁটু গেড়ে বসে মাঠ চুম্বন করতে দেখা যায় এই তরুণকে। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসের ৮ম কনিষ্ঠতম গোলদাতার রেকর্ড গড়লেন ইয়ামাল। আর বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে প্রথম গোল করার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় কনিষ্ঠতম (বয়স ১৮ বছর ৩৪৩ দিন)। সবার ওপরে ফুটবল সম্রাট পেলে, ১৯৫৮ বিশ্বকাপে ওয়েলসের বিপক্ষে ১৭ বছর ২৩৯ দিন বয়সে ম্যাচের প্রথম গোলটি করেছিলেন।
প্রথম ম্যাচে ৩০ মিনিটে একবারও বল স্পর্শ করতে না পারায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড মিকেল ওয়ারজাবাল। তবে এ ম্যাচে তিনি সমালোচকদের উপযুক্ত জবাব দিয়েছেন। ইয়ামালকে দিয়ে গোল করানোর পাশাপাশি নিজেই ম্যাচের ২১ এবং ২৪ মিনিটে দুটি দুর্দান্ত ক্লোজ-রেঞ্জ গোল করে দলের ব্যবধান ৩-০ করেন।
স্পেনের আক্রমণভাগ এতটাই বিধ্বংসী ছিল যে, কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে প্রথমার্ধের খেলা দেখেই সন্তুষ্ট হন এবং নকআউট পর্বের কথা মাথায় রেখে হাফ-টাইমেই তার দুই গোলদাতা ইয়ামাল ও ওয়ারজাবালকে মাঠ থেকে তুলে নিয়ে বিশ্রাম দেন।
দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতে না হতেই ৪ মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ে। স্প্যানিশ ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়ার একটি জোরালো শট সৌদি ডিফেন্ডার হাসান আলতামবাক্তির গায়ে লেগে প্রতিহত হতে গিয়ে উল্টো নিজেদের জালে জড়িয়ে যায়। ফলে ৪-০ গোলের বড় জয় নিশ্চিত হয় সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
২০১০ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে স্পেন কখনোই শেষ ১৬-এর গন্ডি পার হতে পারেনি এবং এই দীর্ঘ সময়ে তারা বিশ্বকাপে মাত্র ৩টি ম্যাচ জিতেছিল। প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের সঙ্গে ড্র করার পর স্প্যানিশ সমর্থকদের মনে যে ভীতি তৈরি হয়েছিল, এই রাজকীয় জয়ে তা এক ফুৎকারে উড়ে গেল।
চোট থেকে সেরে ওঠে বিশ্বকাপ অভিষেকে বদলি নেমে তেমন কিছু করতে পারেননি ইয়ামাল। কেপ ভার্দের বিপক্ষে তার দলও সেদিন পায়নি প্রত্যাশিত জয়। সাদামাটা পারফরম্যান্সে সমালোচনাও শুনতে হয়। বিশ্বকাপে স্পেনের হয়ে দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হলেন ইয়ামাল। রেকর্ডটি গাভির, গত আসরে ১৮ বছর ১১০ দিন বয়সে গোল করেছিলেন এই মিডফিল্ডার।
জাতীয় দলের হয়ে ২৭ ম্যাচ খেলে এই নিয়ে সাত গোল করলেন ইয়ামাল, সঙ্গে অ্যাসিস্ট ১২টি।
দুই ম্যাচে একটি করে জয় ও ড্রয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত টেবিলের শীর্ষে স্পেন। ১ পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে সৌদি আরব।
উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দের পয়েন্টও সমান ১ করে। এই দুই দল অবশ্য ম্যাচ খেলেছে একটি করে।
পরের ম্যাচে বাংলাদেশ সময় আগামী শনিবার সকালে উরুগুয়ের বিপক্ষে খেলবে স্পেন। একই সময় মুখোমুখি হবে কেপ ভার্দে ও সৌদি আরব।