সাংবাদিক জামাল খাসোগির গতিবিধি লক্ষ্য রাখতে সৌদি আরব ইসরায়েলি সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের স্পাইওয়্যার ব্যবহার করে বলে দাবি করেছেন সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা এডওয়ার্ড স্নোডেন।
বুধবার রাশিয়া থেকে ভিডিও কলে তেলআবিবের এক কনফারেন্সে স্নোডেন এমন দাবি করেন বলে জানায় তুরস্কের হুরিয়াত ডেইলি নিউজ।
স্নোডেনকে উদ্ধৃত করে পত্রিকাটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, খাসোগির গতিবিধি সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে জানতো সৌদি কর্তৃপক্ষ। নয়তো কনস্যুলেটে প্রবেশে তার ইচ্ছা ও পরিকল্পনা সম্পর্কে কীভাবে জানতো তারা।
গত ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের পর নিখোঁজ হন ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট জামাল খাশোগি। শুরুতে অভিযোগ অস্বীকার করে সৌদি। তবে সংবাদমাধ্যমে তুর্কি গোয়েন্দাদের একের পর এক ‘তথ্য ফাঁসে’র মুখে ১৯ অক্টোবর খাসোগি হত্যার দায় স্বীকার করে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির (এনএসএ) সাবেক সদস্য স্নোডেন বলেন, ইসরায়েলি সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান এনএসও গ্রুপ টেকনোলোজি থেকে সরকারগুলো কারো অবস্থান শনাক্ত করতে উন্নত প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি কিনে থাকে।
তিনি জানান, কানাডায় খাসোগির এক বন্ধুর স্মার্টফোন এনএসও’র পেগাসাস স্পাইওয়্যারে আক্রান্ত হয়। এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে খাসোগি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হতো। এজন্য তার বন্ধুদের অনুসরণ করতো তারা।
এদিক কানাডিয়ান রিসার্চ ইনস্টিটিউট সিটিজেন ল্যাব বলেছে, ‘সৌদি অ্যাক্টিভিস্ট এবং কানাডার স্থানীয় অধিবাসী ওমর আব্দুলাজিজের সেলফোন এনএসওর পেগাসাস স্পাইওয়্যার দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি।’
মোবাইল ফোন থেকে তথ্য হাতিয়ে নেয়া এবং গোয়েন্দাবৃত্তির জন্য পেগাসাস স্পাইওয়্যারটি সবচেয়ে শক্তিশালী সফটওয়্যার। এটির মাধ্যমে স্বৈরাচার ও অগণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর সরকার প্রতিপক্ষের ওপর নজরদারি চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মতো ইসরায়েলও নিজেদের নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যে হানা দিচ্ছে বলে ইসরায়েলিদের সতর্ক করে দিয়েছেন স্নোডেন।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে হাজার হাজার ডকুমেন্ট ফাঁস করে দিয়েছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংস্থায় কাজ করা স্নোডেন। তার মাধ্যমেই প্রকাশ পায় প্রিজম কর্মসূচির আওতায় ফেসবুক, গুগল, মাইক্রোসফট, ইয়াহু, ইউটিউব এবং অ্যাপলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে না জানিয়েই তাদের সার্ভারে সরাসরি প্রবেশ করে তথ্য সংগ্রহ করে এনএসএ এবং ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-এফবিআই।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার এমন অসাংবিধানিক কাজ প্রকাশ পাওয়ায় রীতিমত নায়কে পরিণত হন স্নোডেন। তিনি ২০২০ সাল পর্যন্ত রাশিয়ায় আশ্রয় পেয়েছেন।
