সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সিরিয়ালে কেন নারীদের রাজত্ব

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০১৮, ০৩:২৬ পিএম

ভারতীয় বাংলা বা হিন্দি সিনেমার জগত পুরুষপ্রধান। কদাচিত নারীকেন্দ্রিক সিনেমা হয়ে থাকে। বাণিজ্যিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায়ও দেখা যায়, পুরুষকেন্দ্রিক ছবির সাফল্য বেশি। দুই-একটা যে ব্যতিক্রম নেই তা নয়। আর একদমই উল্টো চিত্র গতানুগতিক টিভি সিরিয়ালের ক্ষেত্রে।

কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকায় এ সম্পর্কিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সিরিয়ালে পুরুষ চরিত্রকে নাম ভূমিকায় আনা হয়েছে খুবই কম। আবার বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দর্শক টানতে ব্যর্থ হয়েছে।

শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, বাংলাদেশেও মৌরি, ঝিলিক, রাশি, বাহা, পাখি, বকুল, জয়ীরা দর্শকদের কাছে খুবই পরিচিত। জনপ্রিয়তা এমন যে, ধারাবাহিকের নামের জায়গায় দর্শক নায়িকার নামেই সিরিয়াল চিনছেন। ‘ইষ্টিকুটুম’কে বাহা-সিরিয়াল বলা হতো, ‘কুসুমদোলা’কেও লোকে চিনত ইমনের সিরিয়াল বলে!

তবে ছেলেদের কেন্দ্রে রেখে ধারাবাহিক যে বিরল, তা নয়। এর যুতসই উদাহরণ ‘ভজগোবিন্দ’ বা ‘হৃদয়হরণ বিএ পাশ’। কিন্তু জনপ্রিয়তার দিক থেকে দুটো ধারাবাহিকই ‘ফাগুন বউ’ কিংবা ‘কৃষ্ণকলি আমি তারেই বলি’র চেয়ে যোজন যোজন দূরে। সাধারণত ছেলেদের গল্পে কেন্দ্রে এনে একেঘেয়েমি ভাঙা থাকে চ্যানেলের উদ্দেশ্য। কিন্তু বেশি দিন দর্শক টানে না এই সব গল্প। অনেক ক্ষেত্রে গল্পে বাঁক বদলও হয়, কিন্তু ততটা সাড়া ফেলতে পারে না। যেমন; ‘জামাইরাজা’ সিরিয়ালের ট্র্যাক বদল করেও যে খুব সুবিধা করতে পারেনি। পরে দুই-একটি সিরিয়াল হলেও হালে খুব একটা পানি পায়নি।

ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নারীদের মূল চরিত্র করে সিরিয়াল নির্মিত হলেও পুরুষ চরিত্রদের ভূমিকা নেহাত কম নয়। ‘ফাগুন বউ’-এ ঐন্দ্রিলা সেনের চরিত্র অর্থাৎ মহুল যতটা জনপ্রিয়, তার তুলনায় বিক্রম চট্টোপাধ্যায়ের রোদ্দুরও কিছু কম নয়। কিংবা ‘প্রতিদান’-এ সন্দীপ্তা সেনের সঙ্গে শেখ রিজওয়ান রব্বানির চরিত্রও সমান গুরুত্ব পায়। তাহলে পুরুষ প্রধান হলে সিরিয়াল চলে না কেন? অনেক সফল সিরিয়ালের লেখক লীনা গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘ধারাবাহিকগুলোর দর্শক কিন্তু মেয়েরাই। সাধারণভাবে ছেলেরা যে খুব বেশি এই সব ধারাবাহিক দেখে, তা নয়। ফিমেল প্রোটাগনিস্টদের সঙ্গে রিলেট করতে পারে মেয়েরাই। নিজেদের কোথাও খুঁজে পায় তারা।’

একই ধরনের সুরে অভিনেত্রী কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। তিনি বলেন, ‘‘অন্দরমহল’-এ আমার করা চরিত্র পরমেশ্বরীর মধ্যে অনেক মেয়ে নিজেদের দেখতে পেয়েছিলেন। অনেকে আমাকে পার্সোনালি বলেছেন সেই কথা। আসলে নিজেদের আইডেন্টিটি পর্দায় দেখতে পেলে, রিলেট করার বিষয়টা আপনা থেকেই ঘটে যায়।’’

লীনা বলেন, ‘সমাজে মেয়েদের উপরে যে নানা রকম নিপীড়ন চলে, সেটা তো অস্বীকার করা যায় না। বাস্তবে হয়তো অনেক মেয়েই সেগুলোর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারেন না। কিন্তু পছন্দের সিরিয়ালে সেই একই পরিস্থিতিতে অন্য একটি মেয়ে কী ভাবে লড়ে যাচ্ছে, সেটা দেখলে তাঁরা মনোবল পান।’

অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলেন ‘প্রতিদান’ সিরিয়ালের অভিনেতা রিজওয়ান। তিনি বলেন, ‘সে রকম দুর্দান্ত পুরুষ চরিত্র লেখা হচ্ছে কি? তবে ধারাবাহিকের কনটেন্ট যদি অন্য রকম হয়, তখন কিন্তু চরিত্রের গ্রহণযোগ্যতা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে বাড়ে।’

রিজওয়ানের কথার সত্যতাও আছে। যেমন ‘জয় বাবা লোকনাথ’ বা এমন ভক্তিমূলক বিষয়ের উপর নির্মিত সিরিয়ালের গ্রহণযোগ্যতা বরাবরই বেশি। যেখানে মূলত পুরুষ চরিত্র ঘিরেই আবর্তিত হয় সিরিয়াল। কনীনিকার ভাষ্যে, ‘আসলে ডেইলি ড্রামাগুলোয় যে কূটকচালি চলে, সেখানে দর্শকের নিজেকে খুঁজে পাওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু নেতাজি কিংবা সিরাজউদ্দৌলার মতো ইতিহাস-নির্ভর শো যদি আসে, সেটা হয়তো একটা নতুন ট্রেন্ড তৈরি করে দেবে। কারণ সেখানে পুরুষ চরিত্ররা ঐতিহাসিকভাবে আইকনিক।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত