সারাদেশে নির্বাচনের সুবাতাস বইছে দাবি করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা বলেছেন, নির্বাচনের একটি অনুকূল আবহ সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে ইটিআই ভবনে নির্বাচনের দিন সফটওয়্যার ব্যবহার নিয়ে এক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি।
নির্বাচনী প্রচারণায় হামলা, গায়েবি মামলা দায়ের এবং প্রার্থীসহ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারে বিরোধী দলগুলোর অব্যাহত অভিযোগের মধ্যে এমন দাবি করলেন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির প্রধান।
মাঠ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ করে নূরুল হুদা বলেন, “আমরা প্রত্যক্ষ করেছি- সমগ্র দেশে নির্বাচনের একটি সুবাতাস, একটি অনুকূল আবহ সৃষ্টি হয়েছে। মানুষের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ত নির্বাচনমুখী আচরণ লক্ষ্য করা গেছে।”
তার দাবি, নির্বাচনের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রার্থীদের মধ্যে উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। তাদের কর্মকাণ্ডের মধ্যে তা প্রতিফলিত হচ্ছে। তারা অনবরত সভা-মিছিল করে যাচ্ছেন। ভোটারদের কাছে গিয়ে ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছেন প্রার্থীরা।
সিইসি বলেন, “দেশব্যাপী নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এর মাধ্যমে একটা নতুন সরকার গঠন হবে ৩০ তারিখের (ডিসেম্বর) পরে, সেই পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। আমরা অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলতে পারি, একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেটার নিয়ামক হিসেবে আপনারা যে যার অবস্থান থেকে সঠিকভাবে দায়িত্বপালন করবেন।”
তিনি বলেন, “প্রায় একবছর ধরে প্রস্তুতি নিয়ে ধীরে ধীরে আমরা নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাই। ৩০ তারিখ সেটার শেষ দিন। সেদিন প্রার্থী, তাদের সমর্থক এবং ভোটাররা ভোট দেবেন। ভোট নির্বাচন কমিশনের কাছে একটি আমানত। সেই আমানত, সেই ভোটের ফলাফলগুলো বিশ্লেষণ এবং বিতরণ আপনাদের হাতে চলে যাবে।”
“এই বছরব্যাপী পরিশ্রম ও প্রস্তুতির ফসল আপনাদের হাতে চলে যাবে। কোনো রকমের ভুলত্রুটির মাধ্যমে প্রার্থীদের অবস্থান নির্ধারণে যাতে ব্যাঘাত না ঘটে, এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনাদের একটু ভুলের কারণে অনেক বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে”
এসময় নূরুল হুদা বলেন, সারাদেশে ১২২টি ইনকোয়ারি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা সারাদেশে নির্বাচনে কোনো অনিয়ম হলে, আচরণবিধি ভঙ্গ হলে অথবা নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড ঘটলে সেগুলো সংশোধন করবে। তারা অনুসন্ধান করবে এবং ব্যবস্থা নেবে।
মাঠপর্যায়ে অভিযোগ জমা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের যেটা অসুবিধা হয়, সেটি হলো- অভিযোগগুলো কেন্দ্র থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে চলে আসে। এই অভিযোগগুলো আমাদের কাছে না এসে যদি তাৎক্ষণিক রিটার্নিং অফিসার এবং ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটির কাছে যায়, তাহলে তাৎক্ষণিক সমাধান পাওয়া যাবে।”
