ধানের শীষ মানে দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ, অর্থপাচার, এতিমের টাকা আত্মসাৎ আর নৌকা মানে স্বাধীনতা, সমৃদ্ধি, জনগণের ভাগ্যবদল ও কল্যাণ, যার ফল মানুষ ভোগ করছে।
শুক্রবার রাজধানী গুলশানের ইয়ুথ ক্লাব মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় এসব বলেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
নৌকার পালে হাওয়া লেগেছে, জোয়ার এসেছে মন্তব্য করে হাসিনা বলেন, নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন বলে মানুষের জীবনের আয় রোজগার বাড়াতে সক্ষম হয়েছি ।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি আরো উন্নত হবে। বাংলাদেশের জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন আমাদের লক্ষ্য। নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে আসিনি। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা সরকার পরিচালনা করি মানুষের জন্য। বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলাই ছিল আমাদের লক্ষ্য। আজকের বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে রোলমডেল। বাংলাদেশের মানুষ সুস্থভাবে বাঁচবে সেটাই আমাদের লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করি না। এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করেছিলেন খালেদা জিয়া। তার বিরুদ্ধ মামলা দিয়েছিল তার পছন্দের ইয়াজউদ্দিন আহমেদ, ফখরুদ্দিন আহমেদ, মইন ইউ আহমেদের সরকার।
‘সেই মামলায় খালেদা জিয়া কারাগারে। এতিমের টাকা চুরি করলে তো শাস্তি ভোগ করতেই হবে, এটা কোরআনেরও বিধান’।
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, খালেদা জিয়ার দুই ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকো (প্রয়াত) অর্থপাচার করে ধরা পড়েছে। তার এক ছেলের অর্থ আমরা দেশে ফেরত এনেছি। যত অপকর্ম করা যায়, তা-ই তারা করেছে।
শেখ হাসিনা ঢাকার নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে বলেন, ঢাকায় বস্তির মধ্যে অনেক মানুষ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করে। আমরা এমন ব্যবস্থা নিচ্ছি যাতে আর তারা এভাবে না থাকেন। ফ্ল্যাটে থাকবে তারা। স্বল্প আয় ও নিম্ন আয়ের মানুষ যাতে সুন্দরভাবে বসবাস করতে পারে, সে ব্যবস্থা করে দেব।
তিনি বলেন, ঢাকার নাগরিক সুবিধা বাড়াতে মেট্রোরেল হচ্ছে। অ্যালিভেটেড এক্সপ্রেস হবে। পাতাল ট্রেন করে দেব। এসব নিয়ে কাজ চলছে।
জঙ্গিবাদ দমনে আওয়ামী লীগ সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির প্রসঙ্গ তুলে বলেন, এই গুলশানে যখন হলি আর্টিজানে হামলা হলো, সবাই ধারণা করেছিল এর কোনও ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। কিন্তু মাত্র ৮-৯ ঘণ্টায় আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। এরপর থেকে আমরা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধ অভিযান চালাচ্ছি।
সভায় তিনি ঢাকা-১৭ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আকবর হোসেন পাঠানসহ (চিত্রনায়ক ফারুক) ঢাকার অন্য প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে সবার জন্য নৌকায় ভোট চান।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে কড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকাল থেকে অবস্থান নেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দুপুরের মধ্যেই মিছিল নিয়ে মাঠে এসে উপস্থিত হন।
