কুলিয়ারচরে পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষ: ৫০০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৮:০৩ পিএম

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষের ঘটনায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নূরুল মিল্লাতকে প্রধান করে ৫৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত সাড়ে চারশ’ বিএনপি নেতা-কর্মীদের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

পুলিশের কর্তব্য কাজে বাঁধা, হামলা চালিয়ে আহত করার অভিযোগে থানার উপ-পরিদর্শক মো. জিল্লুর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় গতকাল সোমবার ঘটনাস্থল থেকে আটক নাজির(২৪), কাজল(২৬), সাগর(১৮), কালাম(৪০), শামীম(১৯) ও আবদুল্লাহ গালিব(২০) কে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

গত সোমবার বিকালে কুলিয়ারচর পৌর শহরের গাইলকাটা নামক এলাকায় পুলিশ-বিএনপি কর্মীদের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ ৭০ রাউন্ড শটগানের গুলি ছুঁড়ে। এতে কিশোরগঞ্জ-৬ ভৈরব-কুলিয়ারচর নির্বাচনী এলাকার বিএনপি দলীয় প্রার্থী মো. শরীফুল আলমসহ কমপক্ষে ১০ নেতা-কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। এ সময় দলীয় নেতা-কর্মীদের ইটপাটকেলে দুই সহকারী উপ-পরিদর্শক মো. শফিকুল ইসলাম ও নাজমুলসহ ৬ পুলিশ সদস্য আহত হন।

ওই ঘটনায় বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, তাদের দলীয় প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শরীফুল আলম ওইদিন বিকালে নিজবাড়ি কুলিয়ারচর পৌর এলাকার বেতিয়ারকান্দি থেকে গণসংযোগে বের হন। তিনি নেতা-কর্মীদের নিয়ে গাইলকাটা রেলক্রসিং পার হবার সময় পুলিশের একটি টিম পিছন দিক থেকে নেতা-কর্মীদের উপর শটগানের গুলি ছুড়তে থাকে। এতে করে শরীফুল আলমসহ কমপক্ষে ১০ নেতা-কর্মী আহত হন। 

পরে রাত ৭টার দিকে বিএনপি প্রার্থী মো. শরীফুল আলম তাৎক্ষণিক আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানান,  গত ১২ ডিসেম্বর উসমানপুর চৌমুরী বাজারে পথসভায় পুলিশের হামলায় আমি ও আমার বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হই। কিছুটা সুস্থ্য হয়ে দেড় সপ্তাহ পর আজ নেতা-কর্মীদের নিয়ে ১নং ওয়ার্ডে গণসংযোগ করে থানার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ বাঁধা দেয়। এ সময় আমরা বাড়ি ফেরার পথে পিছন থেকে পুলিশ অতর্কিতে গুলি চালায়। 

সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবী করে বলেন, তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যেই পুলিশ বার বার তাঁর উপর হামলা করছে। এ সময় তিনি তিনি আরো বলেন, পুলিশ যত হামালাই করুক, জীবন বাজি রেখেই নির্বাচনের মাঠে থাকবো ৩০ ডিসেম্বর। আওয়ামী লীগ পুলিশ দিয়ে শরীফুল আলম এবং তাঁর নেতা-কর্মীদের স্তব্ধ করতে পারবে না ইনশাহআল্লাহ।  

কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ নান্নু মোল্লা জানান, নূরুল মিলাদের নেতৃত্বে প্রায় এক থেকে দেড় হাজার বিএনপি নেতা-কর্মী মিছিল নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিয়ে বাজারে যাচ্ছিল। যা নির্বাচনী আইনের লঙ্ঘন। পুলিশ মিছিলকারীদের বাঁধা দিলে তারা পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল, লাঠিসোটা নিয়ে আক্রমণ শুরু করে। 

এসময় পুলিশ আত্মরক্ষার্থে ৭০ রাউন্ড গুলি ছুড়তে বাধ্য হয়। ওই ঘটনায় বিএনপির পাঁচশ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা হয়েছে বলে তিনি এ সময় স্বীকার করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত