আদালতের আদেশ উপেক্ষিত

আড়াই বছরেও সরেনি কর্ণফুলীর অবৈধ স্থাপনা

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:৫৬ এএম

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর দুই তীর থেকে দুই হাজারের বেশি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে আড়াই বছর আগে উচ্চ আদালত নির্দেশ দিলেও এখনো তা কার্যকর হয়নি। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন বলছে, উচ্ছেদ কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় আদেশ কার্যকর করা যায়নি।  দেশের অর্থনীতির প্রাণপ্রবাহ কর্ণফুলীকে ঘিরে গড়ে উঠেছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম পুরোপুরি নির্ভরশীল কর্ণফুলী নদীর জোয়ার-ভাটার ওপর। কিন্তু দুই তীরের অবৈধ স্থাপনা সংকুচিত করে ফেলেছে নদীটিকে। দুই তীরে গড়ে ওঠা নানা শিল্পকারখানার বর্জ্যে প্রতিনিয়ত দূষিত হচ্ছে কর্ণফুলীর পানি।

সরেজমিন দেখা যায়, কালুরঘাট থেকে শুরু করে পতেঙ্গায় কর্ণফুলীর মোহনা পর্যন্ত দুই তীর দখল করে গড়ে উঠেছে শত শত স্থাপনা। এর মধ্যে রয়েছে বেশকিছু ভারী ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান। নদীর ভেতরে নির্মাণ করা হয়েছে শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালামাল উঠানামার জেটি। রয়েছে বেসরকারি একাধিক খেয়াঘাট, যেগুলো দিয়ে চলে যাত্রী পারাপার। তা ছাড়া বেসরকারি কন্টেইনার ডিপো স্থাপিত হয়েছে কর্ণফুলীর পাড়ে। নদীর বিরাট অংশ দখল করে তৈরি করা হয়েছে ডিপোর জেটিও। জাহাজ নির্মাণ শিল্প প্রতিষ্ঠানও রয়েছে কর্ণফুলীর তীরে। রয়েছে জাহাজ মেরামতের ডক ইয়ার্ড। নদীর পাড় ঘেঁষে গড়ে উঠেছে দোকানপাট, বাজার, বাড়িঘর ইত্যাদি। বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাও রয়েছে নদীর পাড়ে।

অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না হওয়া নিয়ে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন গতকাল শুক্রবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, দুই হাজারের বেশি স্থাপনা উচ্ছেদ মানে বড় ধরনের কর্মযজ্ঞ। এ কাজের জন্য ১ কোটি ২০ লাখ টাকা চেয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার আবেদন করলেও বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ ২০১৭ সালের ২৫ নভেম্বর চিঠি পাঠানো হয়। তা ছাড়া স্থাপনা মালিকদের নোটিশ দেওয়া নিয়েও কিছু জটিলতা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘বিগত কয়েক মাস ধরে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সকলে ব্যস্ত ছিলাম। এখন সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে কীভাবে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করা যায় সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ কর্ণফুলী নদীর গতিপথ স্বাভাবিক রাখতে নদীর সীমানা নির্ধারণ, দখল, ভরাট ও নদীতে যেকোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা চেয়ে প্রায় ৯ বছর আগে হাইকোর্টে জনস্বার্থে একটি রিট আবেদন করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। হাইকোর্টের আদেশে কর্ণফুলীর দুই তীরে জরিপ চালিয়ে ২ হাজার ১১২টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করে তালিকা জমা দেয় জেলা প্রশাসন। বিচারপতি রেজাউল হাসান ও বিচারপতি কাশেফা হোসেনের বেঞ্চ রিট আবেদনের শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ১৬ আগস্ট ৯০ দিনের মধ্যে এসব স্থাপনা অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্টরা সেগুলো অপসারণ না করলে তা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও বিআইডব্লিউটিএর সহযোগিতা নিয়ে উচ্ছেদ করতে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

উচ্চ আদালতের আদেশ প্রতিপালিত না হওয়ায় গত বছর ২ জুলাই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, সিএমপি, পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ ও বিআইডব্লিউটিএর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে হাইকোর্টে আরেকটি রিট আবেদন দাখিল করেন মনজিল মোরসেদ। এর শুনানি শেষে বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মো. আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চ বিবাদীদের বিরুদ্ধে রুল জারির পাশাপাশি তিন মাসের মধ্যে স্থাপনাগুলো উচ্ছেদের নির্দেশ দিলেও সেগুলো বহাল তবিয়তে রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত