মহাভারতের কৌরবরা ছিলেন টেস্ট টিউব বেবি

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০১৯, ০৩:৪৩ পিএম

পুরাণ নিয়ে আমরা সাধারণত প্রশ্নহীন থাকি। কারণ আমরা জানি, এ সব বিষয়ে প্রশ্ন তোলা অবান্তর। তার চেয়ে এর মাঝে কী শিক্ষা নিহিত আছে তা গুরুত্বপূর্ণ। তবে বিষয়গুলো যদি বিশ্বাস সংশ্লিষ্ট হয়- আপনি ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করবেনই।

এই যেমন অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জি নাগেশ্বর রাও। জলন্ধরে চলমান ইন্ডিয়ান সায়েন্স কংগ্রেসে শুক্রবার চমকে দেওয়া কিছু কথা বললেন এ শিক্ষাবিদ।

তার কৌতূহলের বিষয়- কোনো একজন নারীর পক্ষে কি এক জীবনে ১০০টি সন্তানের জন্ম দেওয়া সম্ভব! তাহলে ‘মহাভারত’-এ দুর্যোধনসহ তার ৯৯ ভাইয়ের জন্ম হলো কীভাবে! নাগেশ্বর প্রশ্ন তুললেন, ব্যাখ্যাও দিয়েছেন।

বললেন, “কৌরবরা আসলে টেস্ট টিউব বেবি।”

মহাভারতের প্রসঙ্গ টেনে নাগেশ্বর ব্যাখ্যা করেন, “কৌরবদের একশোটি ডিম্বাণু, একশোটি মাটির পাত্রে রাখা হয়েছিল। তাহলে কি তারা টেস্ট টিউব বেবি নয়? কয়েক হাজার বছর আগে ভারতে স্টেম সেলের গবেষণা হয়েছিল। আর এখন আমরা এ নিয়ে গবেষণার কথা বলছি।”

তিনি এখানেই থামেননি। বরং পুরাণের প্রসঙ্গ টেনে বিজ্ঞানের সঙ্গে আরও তুলনা টেনেছেন। বলেছেন বিষ্ণুর দশাবতারের কথা। এই দশাবতার আসলে ডারউইনের বিবর্তনবাদ যা বলেছেন, সেটাই। ডারউইন বলেছিলেন জল থেকে প্রাণের সৃষ্টি। এই প্রসঙ্গ টেনে নাগেশ্বর রাও বিষ্ণুর মৎস্য অবতারের কথা বলেছেন।

এ ছাড়া রামায়নে বর্ণিত রামের অস্ত্রের কথা তুলেছেন নাগেশ্বর। বিষ্ণুর সুদর্শন চক্রকে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন গাইডেড মিসাইল হিসেবে। যা লক্ষ্যবস্তুতে হানা দিয়ে আবার ফিরে আসত। অবশ্য এ ব্যাখ্যা নতুন নয়। কৌরবদের জন্ম রহস্যই ছিল চমকে দেওয়ার মতো।

তবে এ নিয়ে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। কারণ, সায়েন্স কংগ্রেস একটি আন্তর্জাতিক মঞ্চ। সেখানে বিদেশি প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকেন, থাকেন ছাত্ররা। সেখানকার আলোচ্য বিষয় যদি পুরাণ হয়ে থাকে তবে বিজ্ঞানীদের অস্বস্তি তো হবেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত