রোববার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

আশরাফের জানাজায় শোলাকিয়ায় স্মরণকালের সর্ববৃহৎ জমায়েত

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০১৯, ০৫:৪৪ পিএম

কিশোরগঞ্জে আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের জানাজায় স্মরণকালের সর্ববৃহৎ লোকসমাগম হয়েছে। রোববার দুপুর সোয়া ১টায় ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহের ময়দানে সৈয়দ আশরাফের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজায় অংশ নিতে সকাল ১০টা থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে স্রোতের মতো লোকজন আসতে থাকে শোলাকিয়া মাঠে। প্রিয় নেতা সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে একনজর দেখতে নামাজের পূর্বেই শোলাকিয়া মাঠ কানায় কানায় ভরাট হয়ে জনসমুদ্রে পরিণত হয়। কিশোরগঞ্জ পাগলা মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মো. খলিরুর রহমান জানাজার নামাজে ইমামতি করেন।

জানাজার শেষে প্রিয় নেতাকে দলমত-নির্বিশেষে শ্রদ্ধা জানায় সর্বস্তরের লাখো মানুষ।

কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. ফাইজুল হক গোলাপ জানান, আমি কিশোরগঞ্জের অনেক বড় বড় নেতার জানাজায় অংশগ্রহণ করেছি। কিন্তু  এত মুসল্লির উপস্থিতি কখনো দেখিনি। ঈদের নামাজের চেয়েও বেশি মুসল্লির ঢল নেমেছে এ জানাজায়। মাঠ কানায় কানায় ভরেও তার আশপাশ এলাকা রাস্তায়, বাড়িতে দাঁড়িয়ে মানুষ তার জানাজার নামাজ আদায় করেছেন।

শোলাকিয়া মাঠ কমিটির সভাপতি ও কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মোর্শেদ চৌধুরী জানান, আমরা ভেবে ছিলাম হয়তো মাঠের অর্ধেক পর্যন্ত মুসল্লি হতে পারে। সেই অনুযায়ী মাঠ পরিষ্কার করা হয়েছিল। কিন্তু কখনো ভাবতেই পারিনি জানাজায় দুই লক্ষাধিক মানুষের ঢল নামবে।

কিশোরগঞ্জ পৌর মেয়র মো. পারভেজ মিয়া জানান, সৈয়দ আশরাফ ছিলেন গণমানুষের নেতা। তাই দলমত-নির্বিশেষে লাখ লাখ মানুষ তার জানাজায় অংশগ্রহণ করেছেন। সৈয়দ আশরাফ যে এত বেশি জনপ্রিয় ছিলেন তা জানাজায় প্রমাণ পায় কিশোরগঞ্জবাসি।

কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সাংসদ মো. নাজমুল হাসান পাপন বলেন, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম আমার পিতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সঙ্গে রাজনীতি করেছেন। তখন আমার পিতা আমাকে বলতেন কিশোরগঞ্জে আরেক জন সৎ, নীতিবান নেতার জন্ম হয়েছে সে হলো সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। এর প্রমাণ আমি তার জানাজায় পেয়েছি।

জানাজায় অংশগ্রহণ করেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুল হক হানিফ, কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য নাজমুল হাসান পাপন, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ রেজওয়ান আহম্মদ তৌফিক, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ মো. আফজল হোসেন, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী, পুলিশ সুপার মুশরুকুর রহমান খালেদ, কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাড. কামরুল আহসান শাহজাহান, সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. আফজল হোসেনসহ প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা ও জেলা আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীবৃন্দ।

জানাজার পূর্বে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে সৈয়দ আশরাফের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দ। এ সময় সেখানে সৈয়দ আশরাফের রুহের মাগফিরাত কামনার দোয়া-মোনাজাত করা হয়।

এর আগে বেলা পৌনে ১টার দিকে সৈয়দ আশরাফের মরদেহ হেলিকপ্টারে করে কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল কলেজ মাঠে নিয়ে আসা হয়। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে নেওয়া হয়। সেখানে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। শোলাকিয়ায় জানাজা শেষে দুপুর দেড়টায় ময়মনসিংহের আঞ্জুমান ঈদগাহে মরহুমের তৃতীয় জানাজার জন্য নেওয়া হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত