রোববার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বরিশালে ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:৫৯ এএম

দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো নদীবিধৌত বরিশালেও জেঁকে বসেছে শীত। ঠাণ্ডার মাত্রা এখনো অসহনীয় পর্যায়ে না নামলেও শিশু ও বয়স্করা এতে কাবু হচ্ছেন। এবার পৌষের শীতে বরিশাল নগরীতে ঠাণ্ডাজনিত শ্বাসকষ্ট, জ্বর, সর্দি-কাশি ও হৃদ্রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে। এ ক্ষেত্রে শিশু ও বয়স্কদের প্রতি যতœবান হতে পরিবারের অন্য সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

গতকাল সোমবার সরেজমিনে দেখা গেছে, বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের বহির্বিভাগে বয়স্ক ও শিশুসহ রোগীসহ স্বজনদের ভিড়। হাসপাতালে বিছানাসংকট থাকায় বহু রোগীকে মেঝেতেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকরা জানান, স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে এখন রোগীর চাপ একটু কম হলেও ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। বেলা ১১টায় হাসপাতালের বহির্বিভাগে কথা হয় নগরের পলাশপুর এলাকার বাসিন্দা মো. হেমায়েত উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি জানান, কয়েক দিন ধরে শ্বাসকষ্টে ভুগছেন।  শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন পুরান কয়লাঘাট এলাকার বাসিন্দা রাবেয়া খাতুন, স্টেডিয়াম কলোনির সাবেরা খাতুনসহ অনেকে। তারা হাসপাতালের মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

উজিরপুর উপজেলা থেকে শিশুসন্তানকে নিয়ে এসেছেন আকলিমা বেগম। তিনি বলেন, কয়েক দিন ধরে জ্বরের সঙ্গে সর্দি ও কাশি হচ্ছে। বাকেরগঞ্জ থেকে শিশুসন্তানকে নিয়ে আসা রোজিনা বেগম বলেন, ঠাণ্ডায় নাক আটকে আছে, শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। একই সঙ্গে পাতলা পায়খানাও হচ্ছে। তাই সন্তানকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন। এ ব্যাপারে কথা হয় শেবাচিম হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এম আর তালুকদার মুজিবের সঙ্গে। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শীতে শিশুদের শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশির সঙ্গে ডায়রিয়াও দেখা দেয়। অনেক সময় নিউমোনিয়ায়ও আক্রান্ত হয়। শীতে শিশুদের গরম কাপড়ে ঢেকে রাখা উচিত, যাতে ঠাণ্ডা না লাগে।’ হাসপাতালের বহির্বিভাগের চিকিৎসক ডা. সালেহ আল-দ্বীন-বিন রাসেল বলেন, ‘গত ১৫ দিন ধরে বহির্বিভাগে শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। স্বাভাবিক সময় দিনে একশ থেকে দেড়শ রোগী আসে। বর্তমানে দুইশ থেকে আড়াইশ রোগী দেখতে হচ্ছে। শীতে জ্বর ও শ্বাসকষ্টের রোগী বেশি আসছে। কিছু ডায়রিয়া-আক্রান্ত শিশুও আসছে।’ এ বিষয়ে শেবাচিমের অধ্যক্ষ ডা. মাকসুমুল হক বলেন, ‘সাধারণত শীতের সময় ঠাণ্ডাজনিত রোগে বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া বয়স্ক রোগীদের বেশিরভাগই শ্বাসকষ্ট ও হৃদ্রোগে আক্রান্ত।’ হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন বলেন, ‘সোমবার (গতকাল) হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৪০৬। হাসপাতালে বিছানা কম থাকায় অনেক রোগীকে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।’ হাসপাতালের বর্ধিত ভবনের কাজ শেষ হলে এই সংকট আর থাকবে না বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত